কলকাতা (ভবানীপুর): ভোটের আগে শেষ রবিবারে কার্যত ঝড় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যাম্যাক স্ট্রিট থেকে মনসাতলা—একাধিক সভা করে তিনি যেমন উন্নয়নের বার্তা দিলেন, তেমনই প্রশাসন ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন।
⚡ “পুলিশ আর সেন্ট্রাল ফোর্স প্রেম করতে করতে যাচ্ছে”
সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন ভবানীপুর থেকেই।
মমতার দাবি—
👉 “আমি নিজে দেখেছি, ২০০ জন সেন্ট্রাল ফোর্সের জওয়ান যাচ্ছে, আর একজন পুলিশ তাদের এমনভাবে পথ দেখাচ্ছে যেন প্রেম করতে করতে যাচ্ছে।”
এই মন্তব্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
🗳️ “সেঞ্চুরি হয়েছে, এবার ডাবল সেঞ্চুরি চাই”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন—
👉 “সেঞ্চুরি হয়ে গেছে, এবার ডাবল সেঞ্চুরি করতে হবে। তবেই সরকার শক্তিশালী হবে।”
তিনি জানান, স্থিতিশীল সরকার গড়তে বড় ব্যবধানে জয় জরুরি।
👨👩👧👦 “আমার পরিবারে সব ধর্মের মানুষ আছে”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন—
👉 “আমার পরিবারে পাঞ্জাবি, গোরখা—সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ আছে।”
তিনি জানান, তফসিলি জাতির তিন মেয়েকে তিনি নিজের হাতে বড় করেছেন এবং তাঁদের বিয়েও দিয়েছেন।
🎓 ‘যুব সাথী’ নিয়ে বড় ব্যাখ্যা
মমতা বলেন—
👉 “যুব সাথী ভিক্ষা নয়, এটা ছাত্রছাত্রীদের জন্য পকেট মানির মতো সাহায্য।”
তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।
⚠️ বাহিরের লোক ও হিংসা নিয়ে সতর্কবার্তা
মমতার অভিযোগ—
👉 বাইরে থেকে লোক আনা হচ্ছে
👉 অস্ত্র ও ড্রাগ ঢুকছে
👉 পুলিশের গাফিলতি বাড়ছে
তিনি বলেন—
👉 “২৭ তারিখের পর একটাও বাহিরের লোক যেন না থাকে, এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।”
🔥 অভিষেককে নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া
মমতা সরাসরি বলেন—
👉 “যারা অভিষেককে গালি দেয়, তারা তার পায়ের নখের যোগ্যও নয়।”
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—আগে অভিষেকের সঙ্গে লড়াই করতে।
🏥 স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন—
👉 কিডনি ব্যাংক
👉 হার্ট ব্যাংক
👉 ভবিষ্যতে বোন ব্যাংক
তিনি জানান, এসএসকেএম-সহ একাধিক হাসপাতালকে মিলিয়ে বড় মেডিক্যাল হাব তৈরি হয়েছে।
🛑 গ্রেফতারি ও প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন
তিনি অভিযোগ করেন—
👉 “কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতারি চলছে।”
এবং সতর্ক করেন—
👉 “আজ যারা গ্রেফতার করছে, তাদেরও ভবিষ্যতে ভাবতে হবে।”
🏨 হোটেলে বাহিরের লোক থাকার বিরুদ্ধে সতর্কতা
মমতা বলেন—
👉 “সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর হোটেলে কোনও বাহিরের লোক থাকা উচিত নয়, তারা ভোট নিয়ে চলে যাবে।”
🛕 পুজো ও রাজনীতি নিয়ে তোপ
তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন—
👉 “প্রতি পুজোর সময় বিজেপি কোর্টে যায়।”
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দুর্গাপুজোর কার্নিভাল এখন আন্তর্জাতিক আকর্ষণ।
🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—
👉 ভোটের আগে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তৃণমূল
👉 সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানো
👉 বিরোধীদের চাপে রাখা
👉 সব মিলিয়ে, ভবানীপুর থেকে মমতার এই বক্তব্য শুধু প্রচার নয়—এটি এক বড় রাজনৈতিক সংকেত, যেখানে বিতর্ক, আবেগ এবং কৌশল—সবকিছুর মিশেল স্পষ্ট।














