আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অনন্যা কমপ্লেক্সের বাসিন্দা দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর ঘটনায় একদিকে উঠছে রাজনৈতিক খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশ জানাচ্ছে—এটি নিছকই ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটে যাওয়া ঘটনা।
⚠️ সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মারধর, তারপর মৃত্যু
অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে দেবদীপের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার দাবি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
🔥 কংগ্রেসের অভিযোগ—‘ভোট দেওয়ার জন্যই খুন’
ঘটনার পর কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আসানসোল সাউথ পুলিশ ফাঁড়ি-র সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সহ একাধিক নেতা থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন।
কংগ্রেস নেতা ও আবাসন কমিটির সভাপতি প্রসেনজিৎ পৈতন্ডি বলেন,
“এটি একটি নির্মম মারধরের ফল। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য সামনে আসবে না।”
👮 পুলিশের পাল্টা দাবি—‘রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিবাদ’
তবে পুরো ঘটনায় ভিন্ন সুর পুলিশের। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট-এর ডেপুটি কমিশনার ধ্রুব দাস সাংবাদিক বৈঠকে জানান,
এই ঘটনা কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিবাদের ফল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—
- দেবদীপ একটি ব্যক্তিগত পার্টি থেকে ফিরছিলেন
- সেনরেল ব্রিজ-এর কাছে কারও সঙ্গে তার বচসা হয়
- উভয় পক্ষই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে অনুমান
- পরে বাড়ির কাছেই আবার দু’জন তাকে মারধর করে
- অচেতন হয়ে পড়লে পরিবার বাড়িতে নিয়ে যায়
- পরদিন সকালে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন
🚔 দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, তদন্ত জারি
পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত চলছে এবং আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
⚖️ রাজনীতি বনাম বাস্তব—সত্য কোনটি?
এই ঘটনায় এখন দুই বিপরীত দাবি সামনে—
👉 এটি কি সত্যিই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল?
👉 নাকি ব্যক্তিগত ঝামেলার জেরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক মৃত্যু?
উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়, তবে আসানসোলের এই ঘটনা নির্বাচনী আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।














