আসানসোল: ঐতিহ্য, ভক্তি ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন—১৪৩২ সালের গাজন উৎসব শুরু হল আসানসোলে। শহরের প্রতিষ্ঠাতা নকড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়-এর যৌথ মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই পবিত্র উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়।
এ বছর গাজন উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও থাকবে ভরপুর।
🪔 দীপ প্রজ্বলনে উৎসবের সূচনা
১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় শিব মন্দিরে দীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, উদয় রায়, ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এছাড়াও নীলকণ্ঠেশ্বর জিউ ট্রাস্ট-এর সভাপতি সচিন রায় এবং সম্পাদক অসিত রায়-সহ ট্রাস্টের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
🎶 প্রথম দিনেই জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
উৎসবের প্রথম দিন সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপুল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও আনন্দঘন।
এই সময় সচিন রায় ট্রাস্টের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন এবং অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

🎭 আগামী দিনের বিশেষ আকর্ষণ
গাজন উৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতেও থাকছে নানা আকর্ষণ—
👉 ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে যাত্রা (লোকনাট্য)
👉 ছাত্র সংঘ, সুভাষ সমিতি এবং কলকাতা থেকে আগত দুটি অপেরা দল অংশ নেবে
👉 ১৩ এপ্রিল বিশেষ ধর্মীয় আচার
- হোম যজ্ঞ
- সন্ন্যাসীদের দ্বারা দণ্ডি ও বাণ ফোঁড়া অনুষ্ঠান
🙏 লোকসংস্কৃতি ও আস্থার মিলনমেলা
গাজন উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি গ্রামীণ ও শহুরে সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। প্রতি বছর আসানসোল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
📢 আয়োজকদের আহ্বান
উৎসবের যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ রায় ও কঞ্চন রায় জানান—
👉 ২০২৬ সালের ৩৩১তম গাজন উৎসব জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
👉 শহরবাসীকে এই উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে
🔥 সব মিলিয়ে, আসানসোলের গাজন উৎসব আবারও প্রমাণ করল—বাংলার ঐতিহ্য ও ভক্তি আজও সমানভাবে জীবন্ত, যা মানুষকে একসূত্রে বেঁধে রাখে।















