পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ‘M ফ্যাক্টর’ (মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক) এবার সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। উত্তরবঙ্গের মোট ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টি আসন মুসলিম অধ্যুষিত, যা এই নির্বাচনে “কিংমেকার” হতে পারে। এই আসনগুলি প্রধানত মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।
এই দুই জেলায় মোট ২১টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ১৩টিতেই সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব স্পষ্ট। মালদায় প্রায় ৫১ শতাংশ এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৪৯ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা—যার ফলে ভোটের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করছে এই ভোটব্যাঙ্কের উপর।
⚡ ওয়াইসি-কবীর ফ্যাক্টরে বদলাচ্ছে সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একদিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র AIMIM, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর-এর ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ প্রার্থী দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মাত্র ৭–৮ শতাংশ মুসলিম ভোটও বিভক্ত হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূল কংগ্রেস-এর উপর। এতে সুবিধা পেতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি।
🏛️ মালদা-উত্তর দিনাজপুর: একসময়ের কংগ্রেসের দুর্গ
একসময় মালদা ও উত্তর দিনাজপুর ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি।
মালদায় এবিএ গনি খান চৌধুরী এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি-র প্রভাব ছিল ব্যাপক।
কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
🔄 বদলে যাওয়া ফলাফল
- ২০১৬ নির্বাচন: কংগ্রেস ও বামেদের শক্ত অবস্থান
- ২০২১ নির্বাচন: তৃণমূলের উত্থান, কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন
বর্তমানে—
- মালদা: ১২টির মধ্যে ৮টি আসন তৃণমূল, ৪টি বিজেপি
- উত্তর দিনাজপুর: ৯টির মধ্যে ৮টি তৃণমূল, ১টি বিজেপি
📊 উত্তরবঙ্গে ক্ষমতার অঙ্ক
পুরো উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে ২৪টি আসন।
কিন্তু যদি মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরে, তাহলে এই সংখ্যা কমে যেতে পারে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
🧭 ইতিহাস বলছে কী?
- ২০১১: মানিকচক জিতে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের যাত্রা শুরু
- ২০১৬: বৈষ্ণবনগর জিতে বিজেপির প্রবেশ
- ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন: প্রথমবার বড় মাত্রায় মেরুকরণ, উত্তর মালদা জয় বিজেপির
বর্তমানে দক্ষিণ মালদা লোকসভা আসন কংগ্রেসের দখলে, যেখানে সাংসদ
ইশা খান চৌধুরী।
🔍 বিশ্লেষণ: কার দিকে যাবে মুসলিম ভোট?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের লড়াই শুধুমাত্র দলীয় নয়, বরং “ভোটের বিভাজন বনাম একতাবদ্ধতা”-র লড়াই।
যদি মুসলিম ভোট একজোট থাকে, তাহলে তৃণমূলের সুবিধা।
কিন্তু যদি নতুন দলগুলির কারণে ভোট ভাগ হয়, তাহলে পুরো খেলা ঘুরে যেতে পারে।
🧨 উপসংহার: ‘M ফ্যাক্টর’ই হতে পারে আসল গেমচেঞ্জার
উত্তরবঙ্গে এবার মূল লড়াই ১৩টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসন ঘিরেই।
এই আসনগুলিই ঠিক করবে, ক্ষমতার পাল্লা কোনদিকে ঝুঁকবে।
👉 এখন দেখার—মুসলিম ভোট কি এক থাকবে, নাকি বিভক্ত হয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে?














