৫০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে কংগ্রেস! অধীরকে ভরসা করে কি ফিরবে পুরনো জৌলুস?

single balaji

কলকাতা: একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তি ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শক্তি আজ প্রায় বিলীন। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা কংগ্রেসের বর্তমানে বিধানসভায় একজনও প্রতিনিধি নেই, আর তাদের ভোটের হার নেমে এসেছে মাত্র ২.৯৩ শতাংশে।

📉 শিখর থেকে পতন—কংগ্রেসের দীর্ঘ যাত্রা

১৯৫১ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে ১৫০টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছিল কংগ্রেস। সেই সময় রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন ড. বিধান চন্দ্র রায়
পরবর্তীতে ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালেও কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখে। তবে ১৯৬৭ সালে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটে।

১৯৭২ সালে ২১৬টি আসন জিতে কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরলেও, ১৯৭৭ সালে বামপন্থীদের উত্থানে বড় ধাক্কা খায় দলটি। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ছিলেন কংগ্রেসের শেষ মুখ্যমন্ত্রী।

⚡ বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের মাঝে হারিয়ে যাওয়া শক্তি

১৯৭৭-এর পর বামফ্রন্ট টানা ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করে।
এরপর গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্টের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের জনভিত্তি দ্রুত কমতে থাকে। উপরন্তু, “বামেদের বি-টিম” তকমা পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যায়।

🔥 মমতার উত্থান, কংগ্রেসের বড় ধাক্কা

এই সময়েই কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ২০০০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন।
এরপর ধীরে ধীরে কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের দিকে সরে যায়, ফলে দল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

🗳️ এবার একলা লড়াই, অধীরেই ভরসা

এইবার কংগ্রেস বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট ছেড়ে একাই নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
দীর্ঘদিন পর দলের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

এর পাশাপাশি তৃণমূল থেকে ফিরে আসা মৌসম বেনজির নূর-এর মতো অভিজ্ঞ নেতারাও ময়দানে রয়েছেন।

⚠️ চ্যালেঞ্জের মুখে কংগ্রেস

তবে কংগ্রেসের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়—

  • ক্রমহ্রাসমান জনসমর্থন
  • দুর্বল সংগঠন
  • ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্কের ভাঙন
  • শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের দাপট

📢 ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কংগ্রেস?

২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই বিধানসভা নির্বাচন কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সক্রিয়তা কিছুটা আশার আলো দেখালেও, বাস্তবে ভোটের ফলই ঠিক করবে দলের ভবিষ্যৎ।

🔥 সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এইবার কি কংগ্রেস বাংলায় তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক খরা কাটাতে পারবে, নাকি ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে?

ghanty

Leave a comment