আসানসোল, ২ এপ্রিল ২০২৬: অবসর নেওয়ার পরও কোম্পানির কোয়ার্টার দখল করে রাখা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা উচ্চ আদালত। ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল—এ ধরনের দখল আর বরদাস্ত করা হবে না।
এই মামলায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড-এর পক্ষে রায় দিয়ে আদালত জানিয়েছে, অবৈধভাবে কোয়ার্টার দখল করে রাখলে তার আর্থিক দায় “সরকারি বকেয়া” হিসেবে গণ্য হবে এবং তা সরাসরি কর্মীর অবসরকালীন প্রাপ্য, যেমন গ্র্যাচুইটি, থেকে কেটে নেওয়া যেতে পারে।
⚖️ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ—দখল করলে আর রেহাই নয়
ডব্লিউপিএ ৬০৫০ ও ৬০৫৩ (২০২৬) মামলায় আদালত জানায়—
👉 অবৈধভাবে কোয়ার্টার দখল রাখা আইনত অপরাধের সমান
👉 এর ফলে যে বকেয়া তৈরি হবে, তা সরকারি পাওনা হিসেবে বিবেচিত হবে
👉 সেই অর্থ গ্র্যাচুইটি থেকেও সমন্বয় করা যাবে
💰 গ্র্যাচুইটি আটকে রাখার সিদ্ধান্তে সিলমোহর
একটি ঘটনায়, পোনিয়াটি ওয়ার্কশপ ও সাতগ্রাম-শ্রীপুর এলাকার এক কর্মী অবসর নেওয়ার পরও কোয়ার্টার খালি করেননি।
এই কারণে ইসিএল তাঁর গ্র্যাচুইটি আটকে দেয়, যা আদালত সম্পূর্ণ বৈধ বলে ঘোষণা করেছে।
আদালত আরও জানায়,
👉 বকেয়া ভাড়া ছাড়াও দণ্ডমূলক ভাড়াও (Penal Rent) সরকারি বকেয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে
📜 কোল ইন্ডিয়ার নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রায়
এই রায়টি কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর ১১ নভেম্বর ২০২১ সালের নির্দেশিকার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছিল—
অবসর নেওয়ার পর দ্রুত কোম্পানির কোয়ার্টার খালি করতে হবে।
⚠️ দখলদারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্মব্যবস্থা
আদালত কড়া ভাষায় জানায়—
- অবৈধ দখল প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে
- বর্তমান কর্মীদের জন্য বাসস্থানের সংকট তৈরি করে
🏠 কর্মরত কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ
এই রায়কে কর্মরত কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারণ—
👉 কোম্পানির কোয়ার্টারে প্রথম অধিকার থাকা উচিত বর্তমান কর্মীদের
👉 অবৈধ দখল থাকলে সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়
🔍 কী প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে—
- দ্রুত কোয়ার্টার খালি করার প্রবণতা বাড়বে
- সংস্থার সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে
- ভবিষ্যতে এমন দখলদারির ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে
📢 সব মিলিয়ে, কলকাতা উচ্চ আদালতের এই কড়া রায় শুধু ইসিএল নয়, সমস্ত সরকারি সংস্থার জন্যই একটি শক্ত বার্তা—অবৈধ দখল আর নয়, নিয়ম মেনেই চলতে হবে।













