৩১৫ কোটির সাইবার জালিয়াতি! শিল্পপতি পবন রুইয়া গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বাংলায়

single balaji

পশ্চিমবঙ্গে ফের বড়সড় সাইবার কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস! প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার অনলাইন প্রতারণা মামলায় শিল্পপতি পবন রুইয়া-কে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের সাইবার অপরাধ দফতর। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কলকাতার উপকণ্ঠ নিউ টাউনের একটি হোটেলের কাছে থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

🚨 ১৪৮ ভুয়ো কোম্পানির জাল

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই গোটা প্রতারণা চক্রে ব্যবহার করা হয়েছে ১৪৮টি ভুয়ো বা শেল কোম্পানি। এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যা মূলত সাইবার জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে পুলিশ।

বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে এবং শুরু থেকেই তদন্তকারীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছিলেন।

✈️ দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ধরা সহযোগী

এই মামলায় আগেই রাহুল বর্মা নামে এক অভিযুক্তকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়, যখন সে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। তদন্তকারীদের মতে, রাহুল বর্মা পবন রুইয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং এই প্রতারণা চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

⚖️ হাই কোর্টের রক্ষাকবচ ভাঙতেই গ্রেফতার

গ্রেফতারের আগে বড় আইনি মোড় আসে, যখন কলকাতা হাই কোর্ট অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের জন্য দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আদালত পবন রুইয়া, তাঁর ছেলে রাঘব রুইয়া এবং মেয়ে পল্লবী রুইয়া-কে আগাম জামিন দিয়েছিল।

📱 মোবাইল অ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপের ফাঁদ

তদন্তে আরও জানা গেছে, একটি মোবাইল অ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্প চালানো হত।

  • এক প্রবীণ ব্যক্তিকে বেশি মুনাফার লোভ দেখানো হয়
  • তাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়
  • ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করানো হয়

পরবর্তীতে টাকা ফেরত না পেয়ে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি।

💰 ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রুইয়া পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। এর ফলে অর্থ পাচারের বিষয়টিও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

🔍 তদন্তে আরও বড় নাম আসার সম্ভাবনা

পুলিশ সূত্রে খবর, এই কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে, যা এই মামলাকে আরও গভীর করে তুলছে।

⚠️ সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সাইবার প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে ভুয়ো বিনিয়োগ স্কিম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
👉 অচেনা লিঙ্ক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অস্বাভাবিক লাভের প্রতিশ্রুতিতে বিনিয়োগ করার আগে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

👉 এই ঘটনা শুধু একটি বড় গ্রেফতার নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা—ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতারণার ফাঁদ কতটা গভীর হতে পারে, তারই বাস্তব উদাহরণ এটি।

ghanty

Leave a comment