পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। এবার সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ফর্ম-৬’—নতুন ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র। এই ফর্ম ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, যা ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে এসেছে।
📌 কী এই ফর্ম-৬, কেন এত বিতর্ক?
ফর্ম-৬ মূলত নতুন ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই ফর্মের অপব্যবহার করে বাইরের রাজ্যের মানুষের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।
সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সিইও অফিসে গিয়ে এই অভিযোগ তোলেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়ে দেন।
⚖️ সিইও-র স্পষ্ট বার্তা
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, তাঁর দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের নথি জমা পড়ে, যার মধ্যে ফর্ম-৬-ও থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন—যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও ফর্মই গ্রহণ করা হয় না।
তিনি আরও জানান, নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব সিইও দপ্তরের নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও)।
🗳️ ভোটের সময়সূচি ও নিয়ম
- প্রথম দফার ভোট: ২৩ এপ্রিল
- দ্বিতীয় দফার ভোট: ২৯ এপ্রিল
- মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ:
- প্রথম দফা: ৬ এপ্রিল
- দ্বিতীয় দফা: ৯ এপ্রিল
সিইও দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা পড়া ফর্ম-৬-ই শুধুমাত্র এই নির্বাচনে বৈধ হবে।
⚠️ সিইও অফিসের সামনে উত্তেজনা
মঙ্গলবার সিইও অফিসের বাইরে পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল সমর্থিত বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) অভিযোগ, এক যুবক ব্যাগভর্তি ফর্ম-৬ জমা দিতে আসে। তাঁকে বাধা দিতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
এরপর ঘটনাস্থলে বিজেপি কর্মীরাও পৌঁছে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড করে দু’পক্ষকে আলাদা করে।
নিরন্তর স্লোগান, উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে শেষমেশ পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
🔥 পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
- তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি: বিজেপি বেআইনিভাবে ফর্ম-৬ জমা করছে
- বিজেপির অভিযোগ: তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে
দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
📝 মমতার বড় অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ জমা পড়ছে, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মেলে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অ-বাসিন্দাদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির নির্বাচনেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার জনসভা থেকেও তিনি একই অভিযোগ তুলে বলেন,
“যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের ফেরানো হচ্ছে না। কিন্তু বাইরের লোক এনে তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।”
📱 সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি তুলে ধরে একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, একেবারে রাজনৈতিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্ম-৬ বিতর্ক শুধু একটি নিয়মতান্ত্রিক ইস্যু নয়—এটি আসন্ন নির্বাচনের কৌশলগত লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোট যত এগিয়ে আসবে, এই ইস্যু ততই তীব্র আকার নেবে।
👉 এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে—এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।














