বরাকর (পশ্চিম বর্ধমান): রাম নবমীর পবিত্র উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় বরাকর শহর পরিণত হল ভক্তি ও আস্থার এক বিরাট মিলনক্ষেত্রে। প্রতি বছরের মতো এবারও বরাকর রাম নবমী শোভাযাত্রা কমিটির উদ্যোগে বরাকর স্টেশন সংলগ্ন হনুমান মন্দির থেকে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
এই শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিল কুলটি মণ্ডলের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল। “জয় শ্রী রাম” ধ্বনিতে গোটা শহর মুখরিত হয়ে ওঠে, আর ভক্তির আবহে ডুবে যায় বরাকর।
🎉 হনুমান মন্দির থেকে শুভ সূচনা
বরাকর রেলস্টেশন চত্বরে অবস্থিত হনুমান মন্দিরে প্রথমে ভগবান শ্রী রামের পূজা-অর্চনা সম্পন্ন হয়। এরপর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী বহু মানুষকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানিয়ে যাত্রার সূচনা করা হয়।
🚩 রথে রাম-সীতা, ভক্তিতে মুগ্ধ শহর
শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল—
- রথে বসে থাকা রাম, সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমানের সাজে সজ্জিত খুদে শিল্পীরা
- হাতে পতাকা নিয়ে হাজারো ভক্তের “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি
- রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের ফুল বর্ষণ
এই দৃশ্য এক কথায় চোখে পড়ার মতো এবং আবেগঘন ছিল।
👩 মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ
শোভাযাত্রায় শক্তি বাহিনীর বহু মহিলা সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আরও প্রাণবন্ততা যোগ করেছে।
💧 গরমে মানবিক উদ্যোগ, প্রশংসায় ভাসল সংগঠনগুলি
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ভক্তদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন—
- পানীয় জলের ব্যবস্থা করে
- এলসি মোড় ও অন্যান্য জায়গায় ঠান্ডা জল ও ফলের পানীয় বিতরণ করে
এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
👮 কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা
শোভাযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট-এর পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উপস্থিত ছিলেন—
- ডিএসপি ও এসিপি (কুলটি)
- কুলটি থানার আধিকারিক
- বরাকর ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির আধিকারিক
- সিভিক পুলিশ, মহিলা পুলিশ, কমব্যাট ফোর্স ও আরএএফ
ডিসিপি জানান, গত বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
🛣️ এই পথ ধরে এগোল শোভাযাত্রা
এই বিশাল শোভাযাত্রা—
👉 বরাকর হনুমান মন্দির থেকে শুরু হয়ে
👉 বেগুনিয়া মোড়, হনুমান চড়াই, এলসি মোড়, কুলটি অতিক্রম করে
👉 শেষ পর্যন্ত শ্রীপুর মন্দিরে গিয়ে সমাপ্ত হয়
🌟 ভক্তি, ঐতিহ্য ও একতার অনন্য উদাহরণ
বরাকরের এই শোভাযাত্রা আবারও প্রমাণ করল যে রাম নবমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সামাজিক ঐক্য, ভক্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।
👉 হাজারো মানুষের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা এই অনুষ্ঠানকে করে তুলেছে এক স্মরণীয় ও ভাইরাল মুহূর্ত।














