“আমার খেলা শেষ, কিন্তু দলেই আছি”—কুলটিতে আবেগঘন বার্তা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের

single balaji

কুলটি (পশ্চিম বর্ধমান):
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কুলটি রাজনীতিতে উঠে এল এক আবেগঘন বার্তা। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় টিকিট না পাওয়ার পর জানালেন—
“আমার খেলা শেষ, কিন্তু আমি দলের সঙ্গেই আছি।”

এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

🏛️ তিনবারের বিধায়ক, একসময়ের একমাত্র মুখ

এক সময় যখন পশ্চিম বর্ধমান আলাদা জেলা ছিল না এবং গোটা অঞ্চল বর্ধমান জেলার অন্তর্গত ছিল, তখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক ছিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়।

তিনি ২০০৬, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পরপর তিনবার কুলটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন।

এছাড়াও, তিনি চারবার কুলটি পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১-এর হার ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় অল্প ব্যবধানে—মাত্র ৬০০ ভোটে পরাজিত হন। এই হারের জন্য তিনি দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেন এবং একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভও জানান।

🔥 হার সত্ত্বেও সক্রিয় ভূমিকা

পরাজয়ের পরেও তিনি রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি। গত পাঁচ বছরে তিনি ধারাবাহিকভাবে কর্মীসভা, মিটিং এবং জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

স্থানীয় স্তরে তার এই সক্রিয়তা আজও আলোচনার বিষয়।

২০২৬-এ টিকিট না পাওয়ায় চমক

তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় কুলটি কেন্দ্র থেকে তার নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি হয়েছে।

এত দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠনে অবদান থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রার্থী না করায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

🗣️ আবেগঘন কিন্তু দৃঢ় অবস্থান

এই পরিস্থিতিতেও উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় দলের প্রতি তার আনুগত্য বজায় রেখেছেন। তার বক্তব্য স্পষ্ট—ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হলেও দলই তার প্রথম অগ্রাধিকার।


🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতার টিকিট কাটা কুলটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তার সমর্থকদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

⚠️ উপসংহার

উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বরং দলীয় রাজনীতির পরিবর্তিত চিত্রেরও প্রতিফলন।

এখন দেখার বিষয়, তিনি আগামী দিনে সংগঠনের ভিতরে থেকে কী ভূমিকা নেন এবং কুলটির রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা বজায় থাকে।

ghanty

Leave a comment