কলকাতা:
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল Election Commission of India। রাজ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে IAS অফিসারদের ব্যাপক বদলি ও নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া একটি সরকারি চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়, যা রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে
⚡ জেলায় জেলায় নতুন DM-cum-DEO নিয়োগ
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DM-cum-DEO) নিয়োগ করা হয়েছে।
📌 নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসারদের তালিকা:
- জিতিন যাদব – কোচবিহার
- সন্দীপ ঘোষ – জলপাইগুড়ি
- বিবেক কুমার – উত্তর দিনাজপুর
- রজনীব সিং কাপুর – মালদা
- আর. অর্জুন – মুর্শিদাবাদ
- শ্রীকান্ত পালি – নদিয়া
- স্বেতা আগরওয়াল – পূর্ব বর্ধমান
- স্মিতা পাণ্ডে – কলকাতা উত্তর (KMC-র পৌর কমিশনার-cum-DEO)
- রণধীর কুমার – কলকাতা দক্ষিণ (DEO)
- শিল্পা গৌরিসারিয়া – উত্তর ২৪ পরগনা
- অভিষেক কুমার তিওয়ারি – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
- হরিশঙ্কর পানিক্কর – দার্জিলিং
- টি. বালাসুব্রামানিয়ান – আলিপুরদুয়ার
⏱️ ১৯ মার্চের মধ্যে জয়েনিং বাধ্যতামূলক
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নির্দেশগুলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অফিসারদের ১৯ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৩টার মধ্যে তাদের নতুন দায়িত্বে যোগদানের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
🚫 বদলি অফিসারদের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা
যে সমস্ত অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🔍 কেন এই বড় পদক্ষেপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক রদবদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক চাপ কমে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—এবার কোনও রকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
🗳️ বঙ্গ ভোটে বাড়ছে উত্তেজনা
রাজ্যে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার যেমন জোরদার হচ্ছে, তেমনই প্রশাসনও নিজেদের প্রস্তুতি পোক্ত করছে।
নতুন DM ও DEO-দের ওপরই এখন নির্ভর করছে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা। এখন দেখার বিষয়, এই প্রশাসনিক রদবদল কতটা প্রভাব ফেলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে।














