কলকাতা/পশ্চিমবঙ্গ:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে এক বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এবারের তালিকায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়কের টিকিট কেটে দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করেছে।
⚡ বড় রদবদল, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
শুধু টিকিট কাটা নয়, আরও ১৫ জন বিধায়কের কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—একই জায়গায় স্থির হয়ে থাকলে চলবে না, পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
দলের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরেই “কাজ করো না হলে সরে দাঁড়াও” নীতি নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা এবার বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
🎯 পারফরম্যান্সই প্রধান মাপকাঠি
গত পাঁচ বছরের কাজের নিরিখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যাঁরা সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
📉 শহর ও আধা-শহর এলাকায় ধাক্কা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করলেও, বিশ্লেষণে দেখা যায় শহর ও আধা-শহর এলাকায় কিছুটা ভাটা পড়েছে দলের সমর্থনে। সেই কারণেই এই অঞ্চলগুলির একাধিক বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে।
👤 অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি “পারফর্ম করো নইলে বিদায়” নীতিকে আরও জোরদার করেছেন, যার ফলেই এবারের তালিকায় এত বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।
🚫 বড় বড় নাম বাদ
এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ, যেমন মনোরঞ্জন ব্যাপারি, সাবিত্রী মিত্র, সৌমেন মহাপাত্র, কাঞ্চন মল্লিক, মঞ্জু বসু, দুলাল দাস, অসিত মজুমদার, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, নির্মল ঘোষ এবং বিবেক গুপ্ত।
এছাড়াও কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীকেও এবার টিকিট দেওয়া হয়নি।
🔄 এই নেতাদের কেন্দ্র বদল
অন্যদিকে, কিছু নেতাকে নতুন কেন্দ্র থেকে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শওকত মোল্লা, রানা চট্টোপাধ্যায়, রত্না চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর, বিদেশ বসু, সোহম চক্রবর্তী এবং রুকবানুর রহমান।
🧩 নতুন মুখ ও নতুন কৌশল
দল মোট ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যেখানে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং আসন সহযোগী দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
🏁 ২০২৬ নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ
১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি। তাই দল এবার এমন প্রার্থীদের বেছে নিয়েছে, যারা মাটির সঙ্গে যুক্ত এবং নিয়মিতভাবে সংগঠনের কাজ করে গেছেন।
🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
তৃণমূল কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে দল এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা নয়, কাজই হবে আসল পরিচয়—এই বার্তা দিয়েই তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে।
এখন দেখার বিষয়, এই ‘পারফরম্যান্স পলিটিক্স’ ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে এবং তৃণমূল কংগ্রেস আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে কি না।














