নয়াদিল্লি: দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ আজই ঘোষণা হতে পারে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আজ বিকেল ৪টায় বিজ্ঞান ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি—এই পাঁচ রাজ্যের ভোটের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের নজর এখন এই ঘোষণার দিকে, কারণ এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনকে আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সময়ে শেষ হচ্ছে বিধানসভার মেয়াদ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হতে চলেছে।
- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ৭ মে
- তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ১০ মে
- আসাম বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২০ মে
- কেরল বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২৩ মে
- পুদুচেরি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ১৫ জুন
সংবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই এই রাজ্যগুলিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন সরকার গঠন করতে হবে।
আগের নির্বাচনের ফলাফল
গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গিয়েছিল।
আসাম: ১২৬টি আসনের জন্য তিন দফায় ভোট হয়েছিল। সেখানে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট ৭৫টি আসন জিতে সরকার গঠন করে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে।
পশ্চিমবঙ্গ: ২৯৪টি আসনের জন্য আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসনে জয়লাভ করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, আর ভারতীয় জনতা পার্টি ৭৭টি আসন পায়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও মুখ্যমন্ত্রী হন।
তামিলনাড়ু: ২৩৪টি আসনের জন্য এক দফায় ভোট হয়েছিল। সেখানে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম ১৩৩টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসে। অখিল ভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম ৬৬টি আসন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি ৫টি আসন পায়। এরপর এম. কে. স্টালিন মুখ্যমন্ত্রী হন।
কেরল: ১৪০টি আসনের নির্বাচনে এক দফায় ভোট হয়েছিল। সেখানে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ৯৯টি আসন জিতে সরকার গঠন করে এবং পিনারাই বিজয়ন টানা দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হন। অন্যদিকে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট ৪১টি আসন পায়।
পুদুচেরি: ৩০টি আসনের নির্বাচনে এক দফায় ভোট হয়েছিল। সেখানে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট ১৬টি আসন জিতে সরকার গঠন করে এবং এন. রঙ্গাস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হন। অন্যদিকে ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স ৯টি আসন পায়।
বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাসহ এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, যেখানে বিভিন্ন দল জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছে।
এখন সবার নজর বিকেল ৪টায় নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলনের দিকে, যেখানে ঘোষিত হতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিনক্ষণ।














