পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় বুধবার হঠাৎ করেই জাতীয় সড়ক এনএইচ–১৯-এর একটি গার্ডওয়াল ধসে পড়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকটি গাড়ি অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়।
ঘটনাটি ঘটেছে মেমারি থানার সরডাঙা এলাকায়, যেখানে কলকাতা থেকে বর্ধমানগামী রাস্তায় হঠাৎ করেই গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ে। গার্ডওয়াল ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার একটি বড় অংশও বসে যায়, ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
অল্পের জন্য রক্ষা পেল যানবাহন
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি খুব হঠাৎ ঘটায় সেখানে চলাচলকারী কয়েকটি গাড়ি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে চালকদের দ্রুত সতর্কতার কারণে একটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অংশটি ঘিরে ফেলা হয়।
নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইআরবি নামে একটি বেসরকারি সংস্থা এই রাস্তার নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণেই গার্ডওয়াল ধসে পড়েছে।
এলাকাবাসীদের মতে, এর আগেও বহুবার রাস্তা নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল এবং অনেক সময় রাস্তার আলোও বন্ধ থাকত, ফলে রাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ত।
যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব
এই ঘটনার পর জাতীয় সড়ক এনএইচ–১৯-এ যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে জামালপুর থানার আজাপুর এলাকা থেকে বাইপাস রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের এলাকায় বড় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী
রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর এলাকাবাসীরা দাবি করছেন যে তারা আগে থেকেই যে অভিযোগ তুলেছিলেন তা এখন সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাদের দাবি, দ্রুত এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হোক এবং দায়ী নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শীঘ্রই এনএইচ–১৯-এ স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় চালু করা যায়।














