পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ১৪.২ কিলোগ্রামের এলপিজি সিলিন্ডার ২১ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিন পরেই আবার বুক করা যাবে। সরকারের মতে, অতিরিক্ত মজুত ও সম্ভাব্য কালোবাজারি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৬০ টাকা বাড়ল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম
কেন্দ্রীয় তেল সংস্থাগুলি সম্প্রতি ১৪.২ কিলোগ্রামের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে কলকাতায় একটি সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে ৯৩৯ টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতির কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত বুকিং ও মজুত রুখতেই নতুন নিয়ম
সরকারি সূত্রের দাবি, আগে অনেক গ্রাহক ৫৫ দিনের মধ্যে আবার গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন বুকিং শুরু হয়ে যাচ্ছে। এতে গ্যাসের অতিরিক্ত মজুত এবং কালোবাজারির সম্ভাবনা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ তেল রিফাইনারিগুলিকে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের তেল রিফাইনারিগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক সংযোগের তুলনায় গৃহস্থালির এলপিজি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একাধিক দেশের সঙ্গে এলপিজি আমদানির আলোচনা
সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ে-র সঙ্গে এলপিজি আমদানি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে শিল্পক্ষেত্রের জন্য নির্ধারিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসও (এলএনজি) গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
আপাতত বাড়ছে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আপাতত পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল-এর দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। দেশে এই জ্বালানিগুলির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩০ ডলারের বেশি না বাড়ে, তবে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তেল আমদানিতে বিকল্প পথের খোঁজ
দেশে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালী ছাড়াও অন্য সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত করা হচ্ছে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে নতুন করে তেল সরবরাহ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি।














