লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব! বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে বড় বিতর্কের সম্ভাবনা

single balaji

নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হতে পারে। লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবির অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবের সমর্থনে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।

এই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে বড় ধরনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তিন কংগ্রেস সাংসদের নোটিস

লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই অনুযায়ী কংগ্রেসের তিন সাংসদ মোহাম্মদ জাভেদ, কোডিকুন্নিল সুরেশ এবং মল্লু রবি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিস জমা দিয়েছেন।

সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলে

  • কমপক্ষে দুই সাংসদের স্বাক্ষর
  • ১৪ দিনের নোটিস
  • এবং লোকসভায় কমপক্ষে ৫০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

এই ক্ষেত্রে বিরোধী শিবির দাবি করেছে যে তাদের প্রস্তাবের পক্ষে ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান

প্রথমে যখন নোটিস জমা দেওয়া হয়েছিল, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা তাতে স্বাক্ষর করেননি। তবে পরে দলটি জানিয়েছে যে তারা লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করবে

এর ফলে সংসদে বিরোধী জোটের শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীদের অভিযোগ

নোটিসে লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি—

  • লোকসভায় বিরোধী দলনেতা এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
  • আটজন বিরোধী সাংসদকে পুরো বাজেট অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।
  • বিরোধী মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

নোটিস গ্রহণের পর হবে আলোচনা

লোকসভা সচিবালয় যদি এই নোটিস গ্রহণ করে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন ওম বিড়লা নিজে স্পিকারের আসনে বসবেন না

সাধারণত এই পরিস্থিতিতে লোকসভার উপ-স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। কিন্তু বর্তমানে উপ-স্পিকারের পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

কে পরিচালনা করবেন অধিবেশন?

এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের প্যানেলে থাকা সবচেয়ে প্রবীণ সাংসদ অধিবেশন পরিচালনা করবেন বলে সংসদীয় নিয়মে উল্লেখ রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা রয়েছে যে এই ক্ষেত্রে জগদম্বিকা পাল স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন।

সংসদে বাড়বে রাজনৈতিক সংঘাত

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব এমনিতেই নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে উত্তপ্ত। তার মধ্যে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সংসদের পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

এখন নজর থাকবে, নোটিস গ্রহণের পর সংসদে এই বিষয়টি কতটা বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নেয়।

ghanty

Leave a comment