বরাকার: আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পশ্চিম জোনের কুলটি থানার অধীন বরাকার এলাকায় হোলির দিন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় পদক্ষেপ নিয়ে বরাকার পুলিশ দুই পক্ষ থেকে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বরাকার শহরের ওয়ার্ড নম্বর ৬৮-এর করিম ডাঙাল এলাকায়। হোলির দিন সেখানে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে হঠাৎই বচসা শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ নজরদারি বাড়ায় এবং শনিবার গভীর রাতে অভিযানে নেমে তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে একজন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারির প্রতিবাদে ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ
রবিবার সকালে পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ডিপো ডাঙাল, গায়ত্রী নগর, মালিয়া পাড়া সহ আশপাশের চারটি বস্তি থেকে বহু মহিলা বরাকার ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি, যেসব দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের এই সংঘর্ষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ভুল করে নির্দোষ যুবকদের গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া এক যুবক যক্ষ্মা (টিবি) রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং তাঁর মুক্তির দাবি তোলেন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, হোলির দিন যারা প্রকৃতপক্ষে গোলমাল পাকিয়েছিল তারা এখনও এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নানা ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
মহিলারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ গভীর রাতে বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে অনেক সময় বাড়ির দেয়াল টপকে ঢুকে পড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, যদি পুলিশ তদন্ত করতে চায় তবে দিনের বেলায় করা উচিত, মাঝরাতে এভাবে অভিযান চালালে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
পুলিশের আশ্বাসে শান্ত পরিস্থিতি
দীর্ঘ সময় ধরে বরাকার ফাঁড়ির সামনে মহিলাদের ভিড় জমে থাকায় সেখানে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিযোগ শোনেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিবি আক্রান্ত যুবককে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারী মহিলারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান।
এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো গুজব বা উস্কানিমূলক কাজ বরদাস্ত করা হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দেরও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।














