কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে ধরনা শুরু করেছেন।
দুপুর প্রায় দু’টো থেকে শুরু হওয়া এই ধরনা কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন যে বাংলার ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, “বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের এই ষড়যন্ত্র আমি জনগণের সামনে প্রকাশ করব।”
“জীবিত ভোটারদেরও মৃত দেখানো হয়েছে”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় অনেক জীবিত ভোটারকে ভুলভাবে মৃত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি ধরনা মঞ্চে এমন কয়েকজন ভোটারকে সামনে এনে বলেন, যারা জীবিত থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় তাদের মৃত বলে দেখানো হয়েছে। মমতার কথায়, “যারা আমার সঙ্গে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদেরও মৃত দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ জন্য লজ্জা পাওয়া উচিত।”
৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ
গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ।
এর ফলে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে প্রায় ৭.০৪ কোটি হয়ে গেছে। এছাড়াও ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘পেন্ডিং’ বা বিচারাধীন শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যাদের যোগ্যতা আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে পরে নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সফরের আগে উত্তেজনা
৮ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনা শুরু হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
এই ধরনা কতদিন চলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি দলের সমর্থিত বুথ লেভেল অফিসারদের সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
গিরিরাজ সিংয়ের পাল্টা আক্রমণ
এদিকে বাংলায় সফরে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, “অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের রক্ষা করার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনায় বসেছেন।”
তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিরোধ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই বিষয়টি রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান বিতর্কে পরিণত হতে পারে।
এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া এবং এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।














