আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে বিজেপি এই যাত্রাকে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা বলে দাবি করছে, অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক এবং আসানসোলের বিশিষ্ট তৃণমূল নেতা শিবদাসন দাসু বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, বিজেপি যতই পরিবর্তন যাত্রা করুক না কেন, এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে কোনও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে না। তাঁর মতে, রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ বছর আগে ঘটেছে, যখন মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছিল।
বিজেপির বিরুদ্ধে সংস্কৃতি নষ্টের অভিযোগ
তৃণমূল নেতা শিবদাসন দাসু অভিযোগ করেন, বিজেপি বাইরে থেকে মানুষ এনে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ঐক্য এবং সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বহু বছর ধরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সম্প্রীতি এবং সহাবস্থানের জন্য পরিচিত। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঐতিহ্যকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলার মানুষ এই ধরনের রাজনীতিকে ভালোভাবে বোঝে এবং এতে তারা প্রভাবিত হবে না।
আবারও ‘মা মাটি মানুষ’ সরকারের দাবি
শিবদাসন দাসু দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যতই রাজনৈতিক প্রচার হোক না কেন, আগামী দিনেও পশ্চিমবঙ্গে আবারও “মা মাটি মানুষ” এর সরকারই গঠিত হবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের উপর পূর্ণ আস্থা রাখে।
উন্নয়নের ইস্যুতে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস
তৃণমূল নেতা বলেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প— এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠবে। বর্তমানে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা এবং তার জবাবে তৃণমূল নেতাদের প্রতিক্রিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।














