দেশজুড়ে বড় প্রশাসনিক রদবদল: দিল্লির নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরনজিত সিং সান্ধু, বাংলায় আর. এন. রবি

single balaji

দেশের প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গভর্নর ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে একাধিক নতুন নিয়োগ ও বদলির ঘোষণা করেছেন। এই রদবদলের আওতায় দিল্লি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, তামিলনাড়ু এবং লাদাখ—মোট নয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন মুখ দেখা গেল।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে পরিবর্তন। এতদিন এই দায়িত্বে থাকা বিনয় কুমার সাক্সেনাকে লাদাখের নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তরনজিত সিং সান্ধুকে দিল্লির নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর করা হয়েছে।

বাংলায় নতুন রাজ্যপাল

এই প্রশাসনিক রদবদলের ফলে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি সি. ভি. আনন্দ বোস-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

উল্লেখ্য, সি. ভি. আনন্দ বোস সম্প্রতি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে তিনি জানান যে দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালন করার পর তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কোথায় কোথায় হল পরিবর্তন

রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় যে পরিবর্তনগুলি হয়েছে সেগুলি হল—

  • দিল্লি: নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেলেন তরনজিত সিং সান্ধু
  • লাদাখ: বিনয় কুমার সাক্সেনা হলেন নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
  • পশ্চিমবঙ্গ: নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পেলেন আর. এন. রবি
  • তেলেঙ্গানা: হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লাকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল করা হয়েছে।
  • মহারাষ্ট্র: জিষ্ণু দেব বর্মাকে রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
  • বিহার: অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনকে রাজ্যপাল করা হয়েছে।
  • তামিলনাড়ু: কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • হিমাচল প্রদেশ: নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কবিন্দর গুপ্তা
  • নাগাল্যান্ড: রাজ্যপাল হয়েছেন নন্দ কিশোর যাদব

নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন এমন সময়ে হল যখন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ফলে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জানা গেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্য

কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই নিয়োগ ও বদলির উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর করা।

এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নর ও লেফটেন্যান্ট গভর্নররা নিজেদের রাজ্য বা অঞ্চলে কীভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং এর প্রভাব আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা পড়ে।

ghanty

Leave a comment