পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ গভীর পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারিক আধিকারিক চেয়েছে। এই বিষয়ে দুই রাজ্যের উচ্চ আদালতে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৎপরতা
এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়া-র সাম্প্রতিক নির্দেশ মেনে। শীর্ষ আদালত ভোটার তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি এবং রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তথ্যগত ত্রুটি সংশোধনে বিচারিক তত্ত্বাবধান প্রয়োজন এবং সেই দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টকে দেওয়া হয়। আদালতের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত জরুরি।
ইতিমধ্যেই ৫৩২ আধিকারিক নিয়োজিত
নির্বাচন কমিশনের উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫৩২ জন বিচারিক আধিকারিক এই কাজে নিয়োজিত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭৩ জন ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে পুনর্বিবেচনার ব্যাপক পরিধি এবং তথ্য যাচাইয়ের জটিলতার কারণে অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে।
ডুপ্লিকেট নাম বাতিল, মৃত ভোটারের নাম অপসারণ এবং তথ্য হালনাগাদের মতো একাধিক কাজ একসঙ্গে চলায় চাপ বেড়েছে বলেই জানা গেছে।
আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার দিকে নজর
এখন ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার উচ্চ আদালতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ইতিবাচক সাড়া মিললে পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিচারিক নজরদারির ফলে সমগ্র প্রক্রিয়ায় বাড়বে আস্থা ও স্বচ্ছতা—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।











