পশ্চিমবঙ্গে তীব্র নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যেই কলকাতার লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় বড়সড় পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হল ২৮টি জীবন্ত বোমা এবং একটি দেশি বন্দুক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ভাঙড়ের বানিয়ারা খানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইএসএফ কর্মী বিপুল সামিম খানের বাড়িতে অভিযান চালায়। রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই তল্লাশি অভিযান। অভিযানের সময় বাড়ির ভেতর থেকে তিনটি প্লাস্টিকের কন্টেনারে রাখা ২৮টি জীবন্ত বোমা এবং একটি দেশি বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
অবৈধ অস্ত্র মজুতের অভিযোগ, গ্রেফতার দুই
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে বাড়ির মধ্যে বিপুল পরিমাণ বোমা ও অস্ত্র মজুত করে রেখেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, এই বিস্ফোরক ও অস্ত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আইএসএফ কর্মী বিপুল সামিম খান-সহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ এখন জানতে চাইছে এই বিস্ফোরক মজুতের পেছনে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং কোনও বড় নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে জড়িত কি না।
এলাকায় আতঙ্ক, নিরাপত্তা বাড়াল প্রশাসন
বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের পর ভাঙড় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বোম্ব স্কোয়াড উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে বাড়তি গুরুত্ব
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভাঙড় এলাকায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সেই আবহেই এই বিপুল পরিমাণ বোমা ও দেশি বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সাইবার ও গোয়েন্দা তদন্তও শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের নাম সামনে আসতে পারে।











