আসানসোল: ফের বোমা বিস্ফোরণের হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোল জেলা জজ ও সেশনস কোর্টে। আদালত প্রাঙ্গণে বোমা রাখা হয়েছে বলে ইমেলে হুমকি আসতেই প্রশাসন ও পুলিশ মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয় এবং গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
জেলা জজের দপ্তরে একটি ইমেল পৌঁছায়, যেখানে নামাজের পর আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়। ইমেলে স্পষ্টভাবে আদালতকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ থাকায় আদালত চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
🚨 তৎপর পুলিশ, শুরু হয় তল্লাশি অভিযান
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আসানসোল আদালত চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বোম স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডকে ডেকে এনে আদালত প্রাঙ্গণের প্রতিটি অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ধ্রুব দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজরদারি চালান।
📧 কোয়েম্বাটুর থেকে পাঠানো ইমেল, তদন্তে সাইবার টিম
চিফ ম্যাজিস্ট্রেট এক্সিকিউটিভ অফিসার ভারত দাস জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ইমেলটি কোয়েম্বাটুর থেকে পাঠানো হয়েছে এবং একটি পাকিস্তানি সংগঠনের নামে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। ইমেলে নামাজের পর বিস্ফোরণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, যা গোটা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ইমেলের প্রযুক্তিগত উৎস, আইপি ট্র্যাকিং এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক যাচাই করতে সাইবার সেল ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এটি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টাও হতে পারে—তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
🛡️ কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে আদালত চত্বর
বর্তমানে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক বস্তু উদ্ধারের সরকারি নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তবে বারবার হুমকির ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, পাশাপাশি পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।











