আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও বিজেপির এক উদ্যমী নেতা গত কয়েকদিন ধরে আসানসোলে ধারাবাহিক জনসংযোগ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার তিনি আসানসোল পৌর নিগমের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।
তিনি জানান, আজ সকালে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে পূজা অর্চনার মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হয়। এরপর মর্নিং ওয়াক করতে করতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হয়। পরবর্তীতে বুথ নম্বর ১৮০, ১৮১, ১৮২, ১৮৩, ১৮৪ ও ১৮৫-এ বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যার খোঁজ নেওয়া হয়।
🚨 “কাউন্সিলরের কাজ নেই, এলাকায় ভয়ের পরিবেশ”
অভিযানের সময় তিনি অভিযোগ করেন যে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এলাকায় কার্যত কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও অসন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু বাসিন্দা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
🗑️ আবর্জনার স্তূপে শৌচ, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা
এলাকার একটি জায়গায় তিনি এমন দৃশ্য দেখেন যেখানে মুখোমুখি দুটি বাড়ির পাশে বিশাল আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে নিয়মিতভাবে মানুষ শৌচকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা নেই এবং শৌচাগারেরও সঠিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
বাসিন্দাদের দাবি, নিকাশি, পানীয় জল, সাফাই ও শৌচাগারের অভাবে ওয়ার্ডে বসবাস করা ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলেন, “এই অবস্থায় এখানে থাকা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
🏠 বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠে এল একাধিক মৌলিক সমস্যা
জনসংযোগের সময় মানুষের সঙ্গে কথা বলে আরও বহু মৌলিক সমস্যার কথা সামনে আসে—যেমন নোংরা পরিবেশ, স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি, অপর্যাপ্ত সাফাই ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করেন যে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
✊ আন্দোলনের ইঙ্গিত, সমাধানের আশ্বাস
সমাজসেবী বিজেপি নেতা এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেন যে আগামী দিনে এই বিষয়গুলি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং মৌলিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। ওয়ার্ড ৪৮-এর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য বড়সড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে এই জনসংযোগ অভিযানে বহু কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ও নাগরিক পরিসরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।











