কলকাতা: আগামী ১ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘি থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক মহলে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি থেকেই অভিযানের সূচনা
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বহু বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে জেলার ৩১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৩০টিই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে, আর একটি আসন রয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের হাতে। এই জেলায় বিজেপির কোনও বিধায়ক না থাকায় রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাংগঠনিক কৌশলে জোর বিজেপির
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মূল লক্ষ্য হল বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়ানো এবং জনসংযোগ বাড়ানো। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপকূলবর্তী এলাকায় দলীয় প্রভাব বৃদ্ধি করাই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত। ফলে এই এলাকা থেকে অভিযানের সূচনা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
রাজ্যজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির রূপরেখা
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। ১ মার্চ রায়দিঘির পাশাপাশি কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি এবং গড়বেতা থেকেও একযোগে এই যাত্রা শুরু হবে।
এরপর ২ মার্চ বাকি চারটি সাংগঠনিক বিভাগে এই কর্মসূচির সূচনা করা হবে, যার মাধ্যমে গোটা রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরদার করা হবে।
দাপুটে জাতীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি
এই বৃহৎ রাজনৈতিক অভিযানে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জে. পি. নাড্ডা, রাজনাথ সিং, নীতিন গড়করি এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একাধিক জনসভা, রোড শো এবং সাংগঠনিক বৈঠকেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হওয়াকে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যাত্রা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা দেওয়ার একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ, যা আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।











