ভাষা দিবসে বার্নপুরে প্রতিবাদে ফুঁসছে বাংলা পক্ষ, ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

single balaji

ভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির উদ্যোগে বার্নপুরে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করল বাংলা পক্ষ। শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ না থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাতৃভাষা এবং বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করা হয়, যা শিল্পাঞ্চল জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্য ও সাধারণ মানুষ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করেন এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথ নেন। বক্তারা বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি।

আইএসপি-র অধীন স্কুলগুলি নিয়ে উদ্বেগ

সংগঠনের অভিযোগ, স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড পরিচালিত আইএসপি প্ল্যান্টের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী বার্নপুর বয়েজ হাই স্কুল এবং বার্নপুর গার্লস হাই স্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করা বা বেসরকারিকরণের আশঙ্কার মুখে রয়েছে। এর ফলে এলাকার বাংলামাধ্যমের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় বাঙালি সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাংলা পক্ষের দাবি, বার্নপুর শিল্পাঞ্চলে ধীরে ধীরে বাঙালিদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংগঠনের মতে, এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র স্কুল নয়, বরং অঞ্চলের ইতিহাস ও বাঙালির শিক্ষাগত অধিকারের প্রতীক।

আইএসপি টানেল গেটে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

এই ইস্যুকে সামনে রেখে বার্নপুরের আইএসপি টানেল গেটে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা শিল্পাঞ্চলের সকল বাঙালিকে মাতৃভাষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচিতে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জোরালো স্লোগানও শোনা যায়।

আইএসপি কর্তৃপক্ষের আশ্বাস

অন্যদিকে আইএসপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শীঘ্রই শুরু করা হবে এবং সেখানে বাংলামাধ্যমের ব্যবস্থা বজায় থাকবে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা

সংগঠনের জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই লড়াই কেবল স্কুল রক্ষার জন্য নয়, মাতৃভাষা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে এই স্কুলগুলিতে বাংলামাধ্যম চালু ও নিশ্চিত করতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভাষা দিবস কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপনের দিন নয়, এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন। পুরো কর্মসূচিতে ভাষার গৌরব, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং বাঙালির পরিচয় রক্ষার বার্তা সুস্পষ্টভাবে উঠে আসে, যা বার্নপুর শিল্পাঞ্চলে এক নতুন ভাষা-সচেতনতার আবহ তৈরি করেছে।

ghanty

Leave a comment