আসানসোলের সালানপুর থানার অন্তর্গত রামডি রক্ষা কালী মন্দিরে চুরির ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, মন্দিরের সামনে পুলিশ বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা এবং রাতভর সালানপুর থানার পুলিশের গশ্তি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার পরও এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মন্দিরের তালা ভাঙা হয়নি এবং দানবাক্সও অক্ষত রয়েছে। অভিযোগ, চোরেরা বাঁশের সাহায্যে উপরে উঠে মা কালীর প্রতিমার রূপোর মুকুট ও কানের দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় গভীর রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
সকালে পরিষ্কার করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার
মন্দিরের সেবাদার ভূপেন মাহাতো জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো গত সন্ধ্যায় মন্দির বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। কিন্তু আজ সকালে মন্দির পরিষ্কার করতে এসে দেখেন, প্রতিমার মাথার মুকুট ও কানের দুল উধাও এবং গলার মালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
এই দৃশ্য দেখেই তিনি হতবাক হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের খবর দেন।
অচেনা যুবক নিখোঁজ, বাড়ছে সন্দেহ
ভূপেন মাহাতো আরও জানান, গত দু’দিন ধরে এক অচেনা যুবক বাইরে থেকে এসে মন্দিরে অবস্থান করছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং ওই যুবকের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
পুরোহিতের উদ্বেগ: অসামাজিকদের নিশানায় ধর্মীয় স্থান
মন্দিরের পুরোহিত বলেন, এখন ধর্মীয় স্থানও অসামাজিক দুষ্কৃতীদের নিশানায় পরিণত হয়েছে। গত রাতে মা কালীর গয়না, অর্থাৎ রূপোর মুকুট ও সোনার দুল চুরি হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক ঘটনা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে সালানপুর থানায় বর্তমানে স্থায়ী ইন্সপেক্টর ইনচার্জ না থাকায় অসামাজিক দুষ্কৃতীদের সাহস বেড়ে গেছে। তাঁদের দাবি, রাতের সঠিক পুলিশ টহল থাকলে এই ধরনের চুরি রোধ করা সম্ভব ছিল।
অনেকেই বলেন, “যখন মন্দিরই নিরাপদ নয়, তখন আমাদের বাড়ি ও দোকান কতটা নিরাপদ?”—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে গোটা এলাকাজুড়ে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুরির পদ্ধতি অত্যন্ত পরিকল্পিত হতে পারে এবং পুরো ঘটনাটি ঘিরে রহস্য উদঘাটনে একাধিক দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। Meanwhile, এই অদ্ভুত চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।











