পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এল। উত্তরবঙ্গের কুর্সিয়াং কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার দল ছেড়ে শাসক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। কলকাতার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঞ্জা।
২০২১ সালে প্রথমবার বিধায়ক, তারপর থেকেই বাড়ছিল অসন্তোষ
সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতভেদ ও অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে আসছিল। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পাহাড়ি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
লোকসভা ভোটেও লড়েছেন, ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে সরব ছিলেন
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি দার্জিলিং আসন থেকে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই সময় তিনি রাজু বিস্তাকে ‘বহিরাগত’ বলে কড়া সমালোচনা করেন। যদিও ওই নির্বাচনে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
গোরখাল্যান্ড দাবি ও পাহাড়ের উন্নয়ন ছিল মূল ইস্যু
বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক গোরখাল্যান্ড রাজ্যের দাবিকে সমর্থন করে আসছিলেন। তাঁর বক্তব্য, দার্জিলিং পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আলাদা গুরুত্ব প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নেতৃত্ব আঞ্চলিক প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মাটিতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়নি।
বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
এদিকে, বিধানসভায় বিজেপির চিফ হুইপ শঙ্কর ঘোষ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিষ্ণু প্রসাদ শর্মার নিজের কেন্দ্রে শক্তিশালী জনভিত্তি নেই এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগে ছিলেন না।
ভোটের আগে দলবদলে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ আগামী মে মাসে শেষ হতে চলেছে এবং তার আগেই রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমন সময়ে এক বিজেপি বিধায়কের তৃণমূলে যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদল উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কুর্সিয়াং ও দার্জিলিং পাহাড় অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরদার হচ্ছে জল্পনা, কৌশল ও পাল্টা কৌশলের লড়াই।











