আসানসোলে ধর্মীয় আবহে উদ্যাপিত হল গুরু নানক গুরুদ্বারা বড় গোধূলির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন। দুই দিনব্যাপী অখণ্ড পাঠের মধ্য দিয়ে এই শুভ সূচনা হয়। বুধবার অখণ্ড পাঠ সমাপ্তির পর অনুষ্ঠিত হয় গুরুবাণী কীর্তন, যেখানে ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
দিল্লির ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা বাংলা সাহেব থেকে আগত ভাই জতিন্দর সিংয়ের কীর্তনী জাঠা এবং কলকাতা থেকে আগত জসওয়ন্ত সিংয়ের কীর্তন দল গুরুবাণী পরিবেশন করে উপস্থিত সঙ্গতকে আপ্লুত করেন। ভক্তিমূলক সঙ্গীতে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সেবার দুই মেয়াদ, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা
গুরুদ্বারা প্রধান অমরজিৎ সিং ভরারা তাঁর বক্তব্যে জানান, তাঁর দুই মেয়াদের দায়িত্বকালে গুরুদ্বারার সেবায় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। এই সময়ে দুটি গুরুদ্বারার ভবন সংস্কার করা হয়েছে এবং গোধূলি গুরুদ্বারার নতুন ভবনের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অখণ্ড পাঠের মাধ্যমে গুরুদ্বারায় পুনরায় গুরুবাণীর ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, কমিটির উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মানোন্নয়নেও কাজ করা হয়েছে, যা সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু
অমরজিৎ সিং ভরারা ঘোষণা করেন যে কমিটির দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এ বার প্রধান নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে অনিল সিং গম্ভীরকে নিয়োগ করা হয়েছে। সভাপতি পদে আগ্রহীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সঙ্গতের সহযোগিতা ও গুরুদ্বারার নিয়ম যথাসময়ে অনুসরণ করেই সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উপস্থিত সকল সঙ্গতকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি
এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং মেয়র পরিষদের সদস্য গুরুদাস চ্যাটার্জী উপস্থিত ছিলেন। গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সবশেষে গুরুদ্বারা প্রধান সকল অতিথি ও সঙ্গতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আসানসোলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং সামাজিক ঐক্য ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।











