আসানসোলের বহুল চর্চিত কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় বড় আইনি অগ্রগতি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর প্রধান অভিযুক্ত ‘লালা’-কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই সিদ্ধান্তের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, হেফাজতে জেরার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের সূত্র, অবৈধ কয়লা পাচার চক্র এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হবে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুধুমাত্র লালার গ্রেফতারিতে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর বক্তব্য, “লালার মাথার উপর কে রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং তাকেও গ্রেফতার করতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস লালার ২০ কোটি টাকা গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে খরচ করেছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রমাণ বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
এই মামলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতে জেরা থেকে যদি নতুন তথ্য উঠে আসে, তাহলে তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা রয়েছে। অন্যদিকে, ইডির পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিজেপি আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
তদন্তে নতুন মোড়?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হেফাজতে জেরা তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় এবং আর্থিক লেনদেনের জটিল নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা সম্ভব হয়।
কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই নতুন অধ্যায় আগামী দিনে আরও বড় প্রকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।











