কলকাতার বহুল আলোচিত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল দুর্নীতি মামলায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রবर्तन অধিদপ্তর (ইডি) চার্জশিট দাখিল করলেও প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।
সোমবার ন্যায় ভবনে শুনানির সময় ইডি আদালতকে জানায়, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিটে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন এখনও মেলেনি। সেই কারণেই চার্জশিট জমা পড়ার পরও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ৭ এপ্রিল।
কেন দরকার অনুমোদন?
আইন অনুযায়ী, কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে কর্মরত বা প্রাক্তন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে চার্জশিটের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া এগোতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন আবশ্যক। সন্দীপ ঘোষ যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে ছিলেন, তাই তাঁর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি অপরিহার্য।
কারা আছেন চার্জশিটে?
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম চার্জশিটে যাঁদের নাম রয়েছে—
- সন্দীপ ঘোষ (প্রাক্তন অধ্যক্ষ)
- বিপ্লব সিংহ (ব্যবসায়ী)
- সুমন হাজরা (ব্যবসায়ী)
- আরও এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী
অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এর আগে একই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই চার্জশিট দাখিল করেছিল।
ইডির বিস্ফোরক দাবি
চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ইডি এক বিবৃতিতে জানায়, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হিসাব থেকে ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে জমা বিপুল অর্থ পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে তাঁদের ঘনিষ্ঠদের নামে চেক ইস্যু করা হয়। সেই চেকের মাধ্যমে অর্থ তোলা বা অন্য সংস্থায় স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তা নগদে রূপান্তরিত করা হয়। ইডির দাবি, অপরাধজনিত অর্থ গোপন করতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, চার্জশিট জমা পড়ার পরও অনুমোদনে বিলম্ব কেন? শাসক শিবিরের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু দুর্নীতির তদন্ত নয়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরীক্ষাও।
স্কুলেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
এদিকে গত সপ্তাহে কলকাতার এক বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের মামলায় পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিল ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
নজর ৭ এপ্রিল
এখন সবার দৃষ্টি ৭ এপ্রিলের শুনানির দিকে। তার আগেই কি মিলবে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন? নাকি আইনি জট আরও দীর্ঘায়িত হবে?
আরজি কর দুর্নীতি মামলা রাজ্য রাজনীতিতে যেমন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়িয়ে তুলেছে।











