মহাশিবরাত্রিতে রাজ্যজুড়ে ‘যুব সাথী’ শিবিরে উপচে পড়া ভিড়

single balaji

আসানসোল: মহাশিবরাত্রির পবিত্র দিনে রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হল ‘যুব সাথী’ শিবির। বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত এই সরকারি শিবিরগুলিতে সকাল থেকেই দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বহু তরুণ-তরুণী আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে ব্যস্ত।

শিবিরে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক ভাতার আবেদনপত্র এবং Lakshmi Bhandar প্রকল্পের নতুন স্তরের আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে একাধিক পরিষেবা একসঙ্গে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

কী এই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প?

রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এই আর্থিক সহায়তা সর্বাধিক পাঁচ বছর বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত চালু থাকবে।

প্রকল্পের আওতায় বছরে ১৮,০০০ টাকা এবং পাঁচ বছরে মোট ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা মিলবে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই চাকরিরত বা অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।

রাজ্যজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ

রাজ্যের সব ২৯৪টি বিধানসভা এলাকায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, যা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি।

সরকার জানিয়েছে, উপভোক্তারা নির্দিষ্ট কিছু বৃত্তির জন্য আগের মতোই যোগ্য থাকবেন। পাঁচ বছর পর প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।

মানুষের প্রতিক্রিয়া

লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই জানিয়েছেন, “সরকার যে দলেরই হোক, সুবিধা পেলে আমরা তা নেব।” তবে একাংশের মত, শুধু ভাতা নয়, স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই বেশি জরুরি, যাতে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে না হয়।

কবে থেকে কার্যকর?

প্রথমে জানানো হয়েছিল প্রকল্পটি আগস্ট থেকে চালু হবে। পরে ঘোষণা করা হয়, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর হবে।

মহাশিবরাত্রির দিন শিবিরে এমন ভিড় প্রমাণ করছে—রাজ্যের বেকার যুবসমাজ এই প্রকল্প ঘিরে আশাবাদী। এখন দেখার, বাস্তবায়নের পর কতটা উপকৃত হন আবেদনকারীরা।

ghanty

Leave a comment