বেঙ্গালুরু (কর্ণাটক):
৪ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ৬৯তম এসজিএফআই জাতীয় স্কুল গেমস বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ও বালিকা বিভাগে আয়োজিত এই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত তরুণ বক্সাররা তাঁদের দক্ষতা, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের দুর্দান্ত প্রদর্শন করেন।
এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ দল গড়ে তুলেছে এক নতুন ইতিহাস। বক্সিংয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা বিভাগে ৫৭–৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে পদক জিতে এক অনন্য নজির স্থাপন করল। এই সাফল্য রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক গর্বের অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পূর্বা পালের দুর্দান্ত লড়াই, জাতীয় মঞ্চে বাংলার মুখ উজ্জ্বল
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন পূর্বা পাল। অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা বিভাগে তিনি পদক জিতে পশ্চিমবঙ্গকে জাতীয় স্তরে গর্বিত করেছেন। সেমিফাইনাল ম্যাচে উত্তরাখণ্ডের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে পূর্বা এই সাফল্য নিশ্চিত করেন। তাঁর দৃঢ় মানসিকতা, কৌশলগত বক্সিং এবং লড়াকু মানসিকতা ক্রীড়ামহলে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
এই সাফল্যের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে শ্রী পরমজিৎ সিং-এর। তিনি আসানসোল গুরু নানক মিশন হাই স্কুলের শারীরশিক্ষার শিক্ষক এবং পশ্চিমবঙ্গ কাউন্সিল অফ স্কুল গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস-এর অধীন বক্সিং বিভাগের কনভেনার।
তাঁর ধারাবাহিক দিকনির্দেশনা, কঠোর পরিশ্রম, খেলোয়াড়দের প্রতি উৎসাহ এবং উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ফলেই এই ঐতিহাসিক কৃতিত্ব সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্যজুড়ে আনন্দ ও উৎসাহ
পশ্চিমবঙ্গের এই সাফল্যের খবরে রাজ্যজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বেশি মেয়েকে বক্সিংয়ের মতো ক্রীড়ায় যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে বাংলার বক্সাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেদের প্রতিভার ছাপ রাখতে পারবে—এমনটাই মত ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষকদের।
জাতীয় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়কে আন্তরিক অভিনন্দন এবং বিশেষভাবে পূর্বা পাল-কে পশ্চিমবঙ্গের জন্য পদক জিতে রাজ্যের সম্মান বৃদ্ধি করার জন্য রইল শুভেচ্ছা।











