নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশনে অচলাবস্থা অব্যাহত। সোমবার লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা প্রবল হট্টগোল শুরু করেন। স্লোগান ও প্রতিবাদের মাঝে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা একাধিকবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানান। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
অধ্যক্ষ ওম বিড়লা প্রতিবাদরত সাংসদদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংসদ আলোচনা ও গণতান্ত্রিক মতবিনিময়ের জায়গা, বিশৃঙ্খলা বা স্লোগানবাজির জন্য নয়। তবুও বিরোধীদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় সংসদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।
রাহুল গান্ধীকে বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে বাড়ছে টানাপোড়েন
হট্টগোলের আগে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠক হয়। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, বৈঠকে বলা হয়েছিল যে রাহুল গান্ধীকে সংসদে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে অধিবেশন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। একই বৈঠকে লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়েও আলোচনা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
পীযূষ গোয়ালের বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের নোটিস
সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও বিতর্কের পারদ চড়েছে। ডিএমকে সাংসদ ত্রিচি শিবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল-এর বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের নোটিস জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বাইরে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কার্যস্থগন প্রস্তাব
এদিকে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার দাবিতে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি লোকসভায় কার্যস্থগন প্রস্তাবের নোটিস দেন। তাঁর বক্তব্য, এই চুক্তির প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার উপর গভীর, তাই সংসদে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা শম্ভাবী চৌধুরীর
লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর সাংসদ শম্ভাবী চৌধুরী বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের জন্য এটি দুর্ভাগ্যজনক যে বিরোধীরা জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইছে না। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতন্ত্রের অঙ্গ হলেও তা সীমার মধ্যে থাকা দরকার। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিরোধীরা দেশ ও জনগণের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।
আগামী দিনের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে যদি দ্রুত সমঝোতার পথ না বের হয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়জুড়েও সংসদের কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও জনস্বার্থের সিদ্ধান্তগুলির উপর।











