মমতাকে পাল্টা আক্রমণ নির্বাচন কমিশনের, ‘বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে’

single balaji

কলকাতা/নয়াদিল্লি:
পশ্চিমবঙ্গে চলমান SSR (Special Summary Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জয় গোস্বামী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে রাজ্য সরকারের সব অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য— SSR চলাকালীন বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তব। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য বলেই জানিয়েছে কমিশন।

⚠️ SSR-এ যুক্ত আধিকারিকদের উপর হুমকি ও হামলার অভিযোগ

হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতির দিকে। SSR প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের একাংশকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
কমিশনের দাবি, এই কারণেই বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হয়েছে, কারণ SDM ও তহসিলদার স্তরের আধিকারিকদের ARO ও AERO হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি

⏳ হুমকির জেরে SSR প্রক্রিয়ায় দেরি

নির্বাচন কমিশনের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হুমকি ও হিংসার একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার ফলে SSR-এর কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
যেখানে দেশের অন্যান্য রাজ্যে একই প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে বাংলায় Enumeration Form পর্যায়ে ভয় ও প্রতিবন্ধকতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

🚔 FIR নথিভুক্ত না করার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

হলফনামায় কমিশন আরও জানিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে BLO-দের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ সময়মতো FIR নথিভুক্ত করেনি। জেলা নির্বাচন আধিকারিকের হস্তক্ষেপের পরেই অনেক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের হয়েছে, এমনকি গ্রেপ্তারিতেও দেরি হয়েছে।

কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতর ঘেরাওয়ের ঘটনায় কমিশনের অভিযোগ—
প্রতিবাদকারীরা ব্যারিকেড ভেঙেছে, ভাঙচুর চালিয়েছে এবং প্রায় ২৮ ঘণ্টা অফিস বন্ধ করে রেখেছিল, তবুও পুলিশ নিরাপত্তা ত্রুটির কথা অস্বীকার করেছে।

😨 ভয়ের পরিবেশ, Y-শ্রেণির নিরাপত্তা CEO-র

নির্বাচন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের CEO দেশের একমাত্র নির্বাচন আধিকারিক যিনি Y-শ্রেণির নিরাপত্তা পেয়েছেন
পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে কমিশন জানিয়েছে, দেবীপুরে মহিলাদের একটি দল স্লোগান দেয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সমর্থকেরা ঝাঁটা হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষকদের তাড়া করে। এই প্রেক্ষিতেই CAPF নিরাপত্তার দাবি তোলা হয়েছে।

ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে ভয় ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ৫৫ জন মাইক্রো-অবজারভার একযোগে SIR ডিউটি থেকে সরে দাঁড়ান

🚨 ‘আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পতন’ বলছে কমিশন

এই সমস্ত ঘটনাকে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙনের প্রতীক বলে উল্লেখ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, অধিকাংশ BLO হলেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি বা আশাকর্মী—যাঁরা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পুলিশের উদাসীনতা ও হামলার কারণে চরম মানসিক চাপে কাজ করছেন

কমিশনের অভিযোগ, শাসক দলের কিছু নেতা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন এবং SIR চলাকালীন নাম বাদ দেওয়াকে “আগুন নিয়ে খেলা” বলছেন। এমনকি কমিশনের কর্মীদের পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

📊 হুমকির মধ্যেও ৯২ শতাংশ ফর্ম জমা

মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে “উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে

তবে সব বাধা সত্ত্বেও কমিশনের দাবি, BLO-রা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে ৭.০৮ কোটির বেশি, অর্থাৎ ৯২.৪০ শতাংশ Enumeration Form জমা দিয়েছেন

ghanty

Leave a comment