কম্বল বিতরণ ঘিরে তুমুল বিতর্ক, পুরুষশূন্য হয়ে গেল আসানসোলের রাইপাড়া

single balaji

আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান:
আসানসোল নর্থ থানার অন্তর্গত ওয়ার্ড নম্বর ১৩-এর রাইপাড়া এলাকা গত কয়েকদিন ধরে কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, পুলিশের অভিযানের আশঙ্কা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে স্বামী, ভাই, ছেলে ও আত্মীয়রা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে গোটা এলাকায় শুধুমাত্র মহিলা ও ছোট ছোট শিশুরাই বসবাস করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

🔴 কীভাবে শুরু হল ‘কম্বল বিতরণ কাণ্ড’?

স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন বা বড় উৎসবের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজসেবীরা এলাকায় কম্বল, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।

এই প্রেক্ষাপটে কল্লা মোড় এলাকার সমাজসেবী ও বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ তাঁর সহযোগীদের নিয়ে সালাডাঙা এলাকায় কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল এবং রাইপাড়া ও ছুঁতা ডাঙা এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু মানুষ সেখানে কম্বল নিতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তৃণমূলের কিছু কর্মী কৃষ্ণ প্রসাদের বিরুদ্ধে “গো ব্যাক” স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষ্ণ প্রসাদ সেখান থেকে চলে যান। পরে তাঁর সমর্থকেরা বাকি কম্বল প্রয়োজনীয় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।

⚠️ মহিলার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

ঘটনার পর সালাডাঙা সংলগ্ন এক গ্রামের এক মহিলা কৃষ্ণ প্রসাদ ও তাঁর কয়েকজন সমর্থকের বিরুদ্ধে কম্বল বিতরণের সময় শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন। ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেন যে কৃষ্ণ প্রসাদ তাঁর জমি জোর করে দখল করেছেন।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতা শ্যাম সোরেন-এর নেতৃত্বে আদিবাসী সমাজের একাংশ আসানসোল নর্থ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলে।

🚔 পুলিশি অভিযানের পর রাইপাড়ায় পুরুষদের হঠাৎ উধাও

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক জায়গায় অভিযান চালায়। এই অভিযানের সময় রাইপাড়ার বাসিন্দা পুষ্পরাজ দাস-কে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর গ্রেপ্তারের পর গোটা এলাকার পুরুষেরা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

ফলে বর্তমানে রাইপাড়ায় শুধুমাত্র মহিলা ও শিশুরাই বসবাস করছেন, যা এলাকায় এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

🧭 চরম সংকটে পড়েছেন এলাকার মহিলারা

পুরুষদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এখন মহিলাদের ওপর এসে পড়েছে। স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে পরিবারগুলির আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

🔥 আদিবাসী সমাজে বিভাজন, রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী সমাজের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। একাংশ মহিলার অভিযোগকে সত্য বলে দাবি করছে, অন্যদিকে আরেকটি অংশ পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ তুলেছে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

📌 অতীতের কম্বল বিতরণ বিতর্ক ফের আলোচনায়

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে আসানসোল নর্থ থানার অন্তর্গত রামকৃষ্ণ ডাঙাল এলাকায় বিজেপির উদ্যোগে একটি বড় কম্বল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে হঠাৎ পদপিষ্ট হয়ে তিনজন মহিলার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং তাঁর গ্রেপ্তারও হয়েছিল।

বর্তমান ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা না ঘটলেও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

🗣️ বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে দল।

🚨 প্রশাসনের নজরে পরিস্থিতি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

ghanty

Leave a comment