সাফাইকর্মীদের ধর্মঘটে বিপর্যস্ত আসানসোল, ছয় দিনে কচুরিপানার মতো বেড়েছে আবর্জনা

single balaji

আসানসোল:
আসানসোল পুরনিগমের অধীনে কর্মরত সাফাইকর্মীদের ধর্মঘট প্রায় ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুরনিগম প্রশাসন ও আন্দোলনরত কর্মীদের মধ্যে কোনও ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরোয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহরের সাধারণ মানুষের উপর। গোটা আসানসোল জুড়ে রাস্তাঘাট, গলি-মহল্লা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমে উঠেছে আবর্জনার স্তূপ, ফলে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।

এই পরিস্থিতিতে আসানসোল পুরনিগমের বিরোধী নেত্রী চৈতালি তিওয়ারি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সাফাইকর্মীদের দাবিগুলি সম্পূর্ণ ন্যায্য, অথচ পুরনিগম তা উপেক্ষা করছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত ট্যাক্স আদায় করা হলেও তার বিনিময়ে নাগরিকদের ন্যূনতম পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে, কিন্তু স্কুলগুলির সামনেই আবর্জনার পাহাড় জমে রয়েছে। গলি-মহল্লা সর্বত্র নোংরা ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি হাসপাতালের সামনেও আবর্জনার স্তুপ থাকায় রোগী ও পরিজনদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। চৈতালি তিওয়ারির অভিযোগ, আসানসোল পুরনিগম সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই বোর্ডের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

অন্যদিকে সমাজসেবী ও বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ জানান, তিনি সাফাইকর্মী ও আন্দোলনরত আশা কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনও প্রয়োজনে কর্মীরা কল্লা বাইপাস সংলগ্ন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন, সেখানে সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন ধরে আন্দোলন চললেও পুরনিগম কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এর ফলেই পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডেই আবর্জনার পাহাড় জমেছে, অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা নিশ্চুপ।

এ বিষয়ে আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জি বলেন, প্রশাসন লাগাতার সাফাইকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শীঘ্রই সমাধান বেরোবে। তিনি জানান, আগে কাজে ফেরার আবেদন করা হয়েছে, তারপর আলোচনার পথ এগোনো হবে। কোনও কাজ সম্পূর্ণ করতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে
চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতি কার্যকর রয়েছে এবং কাজ না করলে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই পরিস্থিতিতে যদি কোনও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা আসানসোলবাসীর জন্য ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আবারও সাফাইকর্মীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার আবেদন জানান এবং সাধারণ মানুষকে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করার ও কাউকে উসকানি না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

বর্তমানে প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। কবে এই সংকটের অবসান হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আসানসোলবাসী।

ghanty

Leave a comment