আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে রাজপথে শুভেন্দু, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন

single balaji

কলকাতার আনন্দপুর এলাকায় ২৬ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক শ্রমিক। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহতদের ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার শতাধিক সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আনন্দপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় ২৬ জানুয়ারির ভোরে একটি মোমো তৈরির কারখানা ও সাজসজ্জার সামগ্রীর গুদামে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। দমকল ও উদ্ধারকারী দল দীর্ঘক্ষণ ধরে অভিযান চালালেও প্রাণ বাঁচানো যায়নি বহু শ্রমিকের।

🔴 ‘আসল দোষীরা আড়ালে’, তোপ বিরোধী দলনেতার

মিছিল চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী মোমো ইউনিট ও গুদামের মালিকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবশালী দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সাজসজ্জার সামগ্রীর সংস্থার এক মালিক ও ফুড চেনের দুই জুনিয়র আধিকারিককে গ্রেপ্তার করে দায় সারা যায় না। সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।

🔥 মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী এখনও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি, অথচ উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছিল। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অগ্নিনির্বাপণ মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে, যা সরকারের চরম অসংবেদনশীলতার পরিচয়।

📸 বিদেশ সফরের ছবি ঘিরে বিতর্ক

মিছিলের সময় শুভেন্দু অধিকারী একটি ফুড চেন সংস্থার এক মালিকের কথিত ছবি প্রদর্শন করেন। তাঁর দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল নিয়ে বিদেশ সফরে ছিলেন এবং সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

💰 ক্ষতিপূরণ নয়, চাকরির দাবি

বিরোধী দলনেতা রাজ্য সরকারের ঘোষণা করা ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দিতে হবে, যাতে পরিবারগুলি ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার আশ্বাস পায়।

এই মিছিলটি শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ইএম বাইপাস ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ অতিক্রম করে আনন্দপুর থানার প্রায় ২০০ মিটার আগে শেষ হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এই মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই কর্মসূচি পালন করা হয়।

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড রাজ্যে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও মানবিকতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।

ghanty

Leave a comment