সিঙ্গুরে জোড়া শিল্পের কথা, কিন্তু ৪০ মিনিটে রাজনীতিই বেশি—SIR ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

single balaji

সিঙ্গুর:
বুধবার সিঙ্গুরে এক সরকারি কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়া শিল্পের কথা উল্লেখ করলেও তাঁর প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়েই ছিল রাজনীতি। শিল্পের প্রসঙ্গের পাশাপাশি তিনি SIR ইস্যুতে কেন্দ্র সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

১০ দিন পর সিঙ্গুরে শিল্প প্রসঙ্গে মমতা

প্রায় ১০ দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরের টাটার মাঠে সভা করেছিলেন, যেখানে শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা চোখে পড়েনি। তার ঠিক ১০ দিন পর মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে বৈঠক করে শিল্প উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের দাবি

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সম্পূর্ণ প্রস্তুত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ৮ একর জমিতে ৯.২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পার্ক তৈরি হয়েছে। এখানে ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং চাষবাসও চলবে, কারণ কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়নি।

৭৭ একরে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা

এরপর মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি প্রকল্পের কথা জানান। তিনি বলেন, ৭৭ একর জমিতে একটি বেসরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
মমতার দাবি, এখানে Amazon ও Flipkart বড় গুদামঘর (ওয়্যারহাউস) তৈরি করছে, যার জন্য রাজ্য সরকার প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের সরকার কথা নয়, কাজ করে দেখায়।”

বিরোধীদের প্রশ্ন ও কটাক্ষ

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে ঘিরে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে।
বিজেপি মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কগুলো বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের MoU-এর মতো—সই হয়, কিন্তু বাস্তবে কার্যকর হয় না। তিনি পার্কগুলিতে কী কাজ হয়েছে, তার হিসাব চান।
অন্যদিকে, হুগলির সিপিএম নেতা একটন দাসগুপ্ত কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চপ, ফ্রাইড রাইস বা কুশন বানালেও তা শিল্প হিসেবে ধরা হয়, তাই বড় শিল্প নিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা অর্থহীন।

SIR ইস্যুতে মোদি-শাহকে প্রশ্ন

সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী SIR ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিবাহিত মহিলাদের পদবি ও ঠিকানা পরিবর্তনের অজুহাতে SIR শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্ন করেন—বিয়ের পর কি তাঁদের স্ত্রীদের পদবি বা ঠিকানা বদলায়নি? তিনি এটিকে নারীবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

নির্বাচনের পর ফের ক্ষমতায় ফেরার দাবি

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নির্বাচনের পর আবারও তাঁর সরকার ক্ষমতায় ফিরবে
তিনি জানান, তিনি কাউকে ভয় পান না—জেল হোক বা গুলি। মমতার কথায়,
“আমি ঠান্ডা হাওয়ার মতো, কিন্তু ধাক্কা লাগলে আমি ঘূর্ণিঝড়, ঝড় আর কালবৈশাখী হয়ে উঠি। আমাকে থামানোর ক্ষমতা কারও নেই।”

আবাস যোজনার কিস্তি প্রদান

সিঙ্গুরের এই কর্মসূচির পর আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা ২০ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ মানুষকে এই প্রকল্পের টাকা দিয়েছে।
ফলে গত দেড় বছরে মোট ৩২ লক্ষ মানুষ আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। গড়ে চার সদস্যের পরিবার ধরলে, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ আসছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।

ghanty

Leave a comment