পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। শুধু ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ থাকা ভোটারদের তালিকাই নয়, এবার প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে ‘নো-ম্যাপিং’ বা ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও। বুধবার জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এই ঘোষণাকে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
📊 চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান: কোটির কাছাকাছি ভোটারে গরমিল
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে—
- পশ্চিমবঙ্গে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ‘আনম্যাপড’, অর্থাৎ যাদের ভোটার তথ্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট ম্যাপিং নেই
- এছাড়া ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জন ভোটারের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে
এই বিপুল সংখ্যক ভোটার নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য।
⚖️ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মান্য করেই পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও শীর্ষ আদালত ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়নি, তবুও কমিশন স্বচ্ছতার স্বার্থে সেই তালিকাও প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পদক্ষেপকে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🗓️ ২৫ জানুয়ারি থেকে আপত্তি ও নথি জমার সুযোগ
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে—
- ২৫ জানুয়ারি থেকে দুই তালিকাই সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হবে
- তালিকাগুলি ইতিমধ্যেই জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর কাছে উপলব্ধ
- ভোটাররা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি জমা বা আপত্তি জানাতে পারবেন
- শুনানির সময় মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্রের পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য হবে
এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর আওতায়।
🚨 এসআইআর ঘিরে অশান্তিতে কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের
এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—
“কেউই আইন নিজের হাতে নিতে পারবে না। এমন কিছু ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
👮♂️ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে—
- প্রতিটি জেলায় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে পর্যাপ্ত পুলিশবল ও কর্মী মোতায়েন করতে হবে
- রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলার এসপি ও ডিএম-কে কড়া নজরদারির নির্দেশ
- কোথাও যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে
🗳️ ভোটের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এই সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য প্রকাশ রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করার চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।











