আসানসোল:
ব্যর্থ প্রেম, হতাশা আর অবৈধ সম্পর্কের টান—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠল শিল্পাঞ্চল আসানসোল। প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো স্বামীকে খুন করার অভিযোগে এক স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়ি এলাকার অন্তর্গত আসানসোল পুরনিগমের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিহারপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জীব বাউরি। তাঁর স্ত্রী মৌসুমি বাউরি এবং তার প্রেমিক অভিরাম বাউরি এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
🔪 প্রেমের আড়ালে তৈরি হয়েছিল খুনের ছক
পুলিশ জানায়, মৌসুমি ও অভিরামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী সঞ্জীব বাউরি। প্রিয়জনকে নিজের করে না পাওয়ার তীব্র হতাশায় ভুগছিল অভিরাম। সেই হতাশা থেকেই গত কয়েকদিন ধরে সে সঞ্জীবকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
সুযোগ বুঝে মৌসুমির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সঞ্জীবকে খুন করা হয়। অভিরামের বিশ্বাস ছিল, স্বামীর মৃত্যু হলে সে অবাধে মৌসুমির সঙ্গে সংসার করতে পারবে। কিন্তু তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় দু’জনেই।
🕵️♂️ পুলিশের জেরায় স্বীকারোক্তি
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি ধ্রুব দাস এক সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি একটি প্রেমঘটিত খুনের ঘটনা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় দু’জন অভিযুক্তই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
⚖️ আদালতে তোলা হবে, পুলিশ রিমান্ডের আবেদন
ডিসি ধ্রুব দাস আরও জানান, অভিযুক্ত দু’জনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ফরেনসিক দলের রিপোর্ট এলে খুনের পদ্ধতি ও ঘটনার সময়কাল আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
❗ অভিযুক্তের পাল্টা দাবি
তবে অন্যদিকে, অভিযুক্ত অভিরাম বাউরি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছে যে সে কোনো খুন করেনি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তার দাবি, সে নাকি মাত্র একদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। পুলিশ এই দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখছে।
🚨 এলাকায় চরম আতঙ্ক
এই হত্যাকাণ্ডের পর পরিহারপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা সমাজে বেড়ে চলা অবৈধ সম্পর্ক এবং পারিবারিক অবক্ষয়ের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।











