কলকাতা / উত্তর ২৪ পরগনা:
পশ্চিমবঙ্গে ফের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সাংগঠনিক বিজেপি জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি চালক ও গাড়িতে থাকা দুই বিজেপি কর্মীকে মারধর করে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা বনগাঁ থানার সামনে বিক্ষোভে শামিল হন এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কীভাবে ঘটল হামলা?
বিকাশ ঘোষের দাবি, রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় দত্তপাড়ার কোরারবাগান মোড় এলাকায় তাঁর গাড়ির পথ রোধ করা হয়। এরপর আচমকাই গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক এবং পরিকল্পিতভাবেই এই আক্রমণ করা হয়েছে।
হামলার জেরে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গাড়িতে থাকা চালকসহ দু’জন বিজেপি কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বনগাঁ সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এটিকে রাজনৈতিক হামলা বলে দেখানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
থানার সামনে বিজেপির বিক্ষোভ
ঘটনার পর বিজেপি কর্মীরা বনগাঁ থানার সামনে জড়ো হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
আগেও হয়েছে বিজেপি নেতাদের উপর হামলা
এই ঘটনা নতুন নয় বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।
গত বছরের অক্টোবরে উত্তরবঙ্গে বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ নাগরাকাটায় হামলার শিকার হন। তাঁদের উপর পাথর, চটি ও লাঠি দিয়ে আক্রমণ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় খগেন মুর্মুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
এছাড়াও সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়েও হামলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের পতাকা হাতে একদল মানুষ তাঁর বুলেটপ্রুফ গাড়ি ঘিরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
একাধিক ঘটনার জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবারই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে।











