‘এখন SIR-এর খেলা শেষ’—বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

single balaji

বারাসত (উত্তর ২৪ পরগনা):
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কচারি ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “আদালতেই বিজেপি হেরে গিয়েছে, এবার ভোটেও হারবে।” তাঁর দাবি, SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতে বিজেপির সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে।

সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলার মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় নেমেছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই চক্রান্ত প্রকাশ্যে এসেছে। আদালতের নির্দেশকে তিনি বিজেপির “গালে সপাটে চড়” বলে কটাক্ষ করেন।

⚖️ সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের অবস্থান গৃহীত

অভিষেক জানান, SIR সংক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে চলছে। প্রাথমিক শুনানিতেই আদালত তৃণমূলের যুক্তি মেনে নিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে কমিশনকে এখন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ শ্রেণিতে রাখা ভোটারদের তালিকা গ্রাম স্তরে প্রকাশ করতে বাধ্য হতে হবে।

🗳️ ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ

তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। তিনি বলেন, আগে কমিশন তালিকা প্রকাশে অস্বীকার করছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে তা আর সম্ভব নয়। শুনানির সময় BLA-2-এর উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে

🌱 “উত্তর ২৪ পরগনার মাটি আমার কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উত্তর ২৪ পরগনার মাটি তাঁর কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক এবং এই মাটি ছোঁয়া মানেই জয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যাঁরা বাংলার মহাপুরুষদের নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না, তাঁরাই আবার ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখান।

🚫 বিজেপিকে শূন্য করার ডাক

নাগরিকত্বের নামে বিজেপি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, আজ যদি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবিত থাকতেন, তবে বিজেপি তাঁদেরও নির্বাচন কমিশনের নোটিস পাঠাত। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে আহ্বান জানান, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ৩৩টি আসনেই বিজেপিকে শূন্য করতে হবে।

💰 “টাকা নিন, কিন্তু ভোট দেবেন না”

সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যে অভিষেক বলেন, নির্বাচনের সময় বিজেপি যদি টাকা দেয়, টাকা নিন, কিন্তু ভোট দেবেন না, কারণ সেই টাকা জনগণেরই। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতানোর নয়, বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। তিনি কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, উত্তর ২৪ পরগনার জন্য বিজেপি কী কাজ করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুক

💸 কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া

অভিষেকের দাবি, কেন্দ্র সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ যদি ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভাগ করা হয়, তবে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা করে পাওয়া সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজসহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, কিন্তু কোনও বিজেপি নেতা এর প্রতিবাদ করেননি।

👥 “মৃত ঘোষিত মানুষদের মঞ্চে হাজির”

সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে পাঁচজন জীবিত মানুষকে হাজির করেন, যাঁদের নির্বাচন কমিশন মৃত বলে ঘোষণা করেছিল। তাঁদের নাম—আব্দুল লতিফ মণ্ডল, অনিতা চক্রবর্তী, শীলা ঘোষ, কমলা ঘোষ ও সোমেশ্বর কর্মকার। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের কি আদৌ চোখ আছে? তাঁর দাবি, ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং কমিশনকে জানাতে হবে—তাঁদের মধ্যে কতজন সত্যিই অবৈধ ছিলেন।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন—
“বলুন তো, কার শক্তি বেশি—পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষ, না বিজেপির বাইরের জমিদার ও শোষকরা?”

ghanty

Leave a comment