ওয়াইসি-ঘনিষ্ঠ AIMIM নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মামলা
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই ঘটনায় অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) দলের নেতা মতিউর রহমান-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বেলডাঙার হিংসার মূল ষড়যন্ত্রকারী তিনিই। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, হামলা এবং হিংসা উসকে দেওয়ার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতেই ফাঁস মূল অভিযুক্ত
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সানি রাজ জানান, ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক হিংসার ভিডিও বিশ্লেষণ করেই মতিউর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেলডাঙার বরুয়া চকের হিংসার সময় তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিবাদকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, একাধিক ব্যক্তির উপর হামলায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণও মিলেছে।
আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে নাম
পুলিশ জানিয়েছে, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হিংসা ছড়ানো ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় মতিউর রহমানের নাম উঠে এসেছে। ফলে তাঁকে নিয়ে পুলিশের নজরদারি আগে থেকেই ছিল।
কেন ছড়ায় হিংসা?
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু এবং বিহারে আরেক শ্রমিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ও শনিবার বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
প্রতিবাদকারীরা জাতীয় সড়ক ১২ এবং রেললাইন অবরোধ করে। পাশাপাশি একাধিক সরকারি গাড়ি ও সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হয়। রবিবার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
এই হিংসা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার পিছনে বিজেপি এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি হুমায়ুন কবীরের হাত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, AIMIM-এর তরফে এখনও পর্যন্ত তাদের নেতার গ্রেপ্তার নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কড়া নজরে প্রশাসন
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো রুখতে বিশেষ টিম কাজ করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











