‘বাংলায় তৃণমূলের অরাজকতার অবসান হবে’—মমতা সরকারকে কড়া আক্রমণ মোদির

single balaji

সিঙ্গুর থেকে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী মোদির

সিঙ্গুর (হুগলি):
“যতদিন তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ রাজ্যের যুবসমাজ ও তাদের সন্তানেরা ভালো চাকরি পাবে না”—রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে এক বিশাল জনসভা থেকে এই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কাছেই আলাদা মঞ্চে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অনুপ্রবেশ—এই তিনটি বিষয়েই তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই বাংলায় “আইনের শাসনহীনতা ও বিশৃঙ্খলার শাসন” শেষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা: ত্রিপুরার উদাহরণ টানলেন মোদি

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সাফল্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন,
“বামফ্রন্ট সরকারের সময় ত্রিপুরায় ১০০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ৪টি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছাত। আজ বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে ১০০টির মধ্যে ৮৫টি বাড়িতে নলের জল পৌঁছে গেছে।”

modi 1

মোদি অভিযোগ করেন, আজও পশ্চিমবঙ্গের অর্ধেক মানুষ বাড়িতে পানীয় জলের সুবিধা পান না। বিজেপি যদি ত্রিপুরায় ক্ষমতায় না আসত, তাহলে সেখানেও পরিবর্তন আসত না। একইভাবে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি বদলাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

‘তৃণমূলের মহা-অরাজকতার অবসান হবে’

সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“যে সরকার উন্নয়ন ও গরিবদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে বাধা দেয়, জনগণ তাদের শাস্তি দেয়। দিল্লিতে যেমন হয়েছে, তেমনই এবার বাংলাতেও হবে।”

তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন—তারা “নির্মম তৃণমূল সরকারকে শিক্ষা দিতে প্রস্তুত”। বিজেপি সরকার এলে বাংলাতেও আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

শিল্প, কর্মসংস্থান ও সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার সম্ভাবনা অপরিসীম। বড় বড় নদী, দীর্ঘ উপকূলরেখা, উর্বর জমি—প্রত্যেক জেলার নিজস্ব শক্তি রয়েছে।
“বিজেপি সরকার এলে প্রতিটি জেলার সেই শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলা হবে এবং বাংলায় আবার শিল্পের জোয়ার ফিরবে,” বলেন তিনি।

সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে মোদি বলেন, এই মাটিই একসময় বাংলার রাজনৈতিক দিকনির্দেশ বদলে দিয়েছিল। প্রায় দু’দশক আগে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে জমি আন্দোলনের জেরে এখান থেকেই টাটা ন্যানো প্রকল্প গুজরাটে সরে যায়। সেই আন্দোলন এবং নন্দীগ্রামের ঘটনাই ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।

এবার সেই সিঙ্গুর থেকেই আবার পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

₹৮৩০ কোটির প্রকল্পের উদ্বোধন, নতুন ট্রেনের সূচনা

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে ₹৮৩০ কোটির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রেল, বন্দর ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি তিনটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করেন—

  • হাওড়া–আনন্দ বিহার টার্মিনাল
  • শিয়ালদহ–বারাণসী
  • সাঁতরাগাছি–তাম্বরম

একদিন আগেই মালদহ জেলায় তিনি ₹৩,২৫০ কোটির বেশি রেল ও সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন এবং দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (হাওড়া–গুয়াহাটি/কামাখ্যা)-এর সূচনা করেন।

ভোটের আগে বাংলায় মোদির সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই দু’দিনের বাংলা সফর উন্নয়ন ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সিঙ্গুরের সভা বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

ghanty

Leave a comment