শিক্ষক থেকে BLO, চাপেই কি প্রাণ গেল? অশোক দাস মৃত্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

single balaji

কলকাতা: বাংলায় চলমান SIR (স্পেশাল সামারি রিভিশন) প্রক্রিয়ার মধ্যেই ভয়াবহ ঘটনা। কলকাতা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুর এলাকার আহিল্যানগরে এক BLO (Booth Level Officer) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত BLO-র নাম অশোক দাস (৪৮)। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ির বাথরুম থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অশোক দাস পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাহারু হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একইসঙ্গে চলতি SIR প্রক্রিয়ায় তাঁকে BLO হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি পূর্ব যাদবপুরের চিতকলিকাপুর এলাকার FP স্কুলে অবস্থিত ১১০ নম্বর পোলিং স্টেশনের BLO হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্বয়ং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। যৌথ পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) রূপেশ কুমার জানান, গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।

🔴 চাপ ও হুমকির গুরুতর অভিযোগ

মৃত অশোক দাসের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ও তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই মানসিক চাপে পড়েই তাঁর স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৃতের দাদু তাপস দাস বলেন, “অশোক মানসিক চাপে ছিল, কিন্তু এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে আমরা ভাবতেই পারিনি।”

🔵 রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

এই ঘটনায় বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যাদবপুর জেলা বিজেপির সম্পাদক মৌসুমি দাস অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কাউন্সিলররা অশোক দাসের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করছিল।” বিজেপি নেত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া দরকার। BLO-দের উপর কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার আবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে BLO নিয়োগ এবং অতিরিক্ত চাপই এই ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী।”

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুকুন্দপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা।

ghanty

Leave a comment