“সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে থাপ্পড় খেল রাজ্য” — কাঁকসায় বিস্ফোরক সুকান্ত

single balaji

কাঁকসা:
ইডির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার—এমনই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। কাঁকসায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে রাজ্য সরকার শুধু হেরেই আসেনি, তৃণমূল কংগ্রেস গালে বড়সড় থাপ্পড় খেয়ে ফিরেছে।”

ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেশের দুই নামী আইনজীবী—কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভিকে দাঁড় করানো হয়েছিল। যারা আদালতে দাঁড়ানোর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন। এত বড় আইনি প্রস্তুতির পরেও সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা তৃণমূলের মুখে জোরালো চপেটাঘাত ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“আয়নায় তাকালে নন্দলাল দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী”

বিতর্কিত মন্তব্যে আরও একধাপ এগিয়ে ড. সুকান্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই নন্দলালের কথা বলেন। এখন রাতে আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের মুখেই নন্দলালকে দেখতে পাবেন তিনি। দুই গালে থাপ্পড় খেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার সুপ্রিম কোর্ট থেকে ফিরেছে বলেও কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা।

তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল শুরু থেকেই চেষ্টা করেছিল মামলাটিকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ইডির তদন্ত বন্ধ করতে পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল রাজ্য সরকার—যা আর সফল হবে না।

এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে অশান্তির অভিযোগ

এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গে ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, কোথায় এই আন্দোলন হচ্ছে, সেটা ভালোভাবে লক্ষ্য করা দরকার। তাঁর দাবি, সবচেয়ে বেশি অশান্তি হচ্ছে চোপড়ায়, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ জনসংখ্যা মুসলিম এবং ৩০ শতাংশ হিন্দু। একইভাবে ফারাক্কা ও লালগোলাতেও অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ।

তিনি অভিযোগ করেন, চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল হোক বা ফারাক্কার রফিকুল—সবার উদ্দেশ্য একটাই। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো। শুধু ভোটে জেতাই নয়, এই রাজ্যকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করাই তাঁদের লক্ষ্য বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা।

পটভূমি: আইপ্যাক ও ইডি অভিযান

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে কলকাতায় আইপ্যাকের দপ্তর এবং তাদের কর্ণধারের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আইপ্যাকের অফিসে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এরপরই ইডির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের করা মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়ে কার্যত রাজ্যের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। সেই রায়কে হাতিয়ার করেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরালো করল বিজেপি।

ghanty

Leave a comment