পশ্চিম বর্ধমান:
ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ফর্ম ৭ গ্রহণ না করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-এর বিরুদ্ধে ফর্ম ৭ গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার জেলাশাসক কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্না কর্মসূচি পালন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
জেলাশাসক দপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছে এবং শাসক দলের স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
🗣️ বিজেপি নেতৃত্বের কড়া অভিযোগ
বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ বলেন,
“একাধিক বিধানসভা এলাকা থেকে ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হচ্ছে না। ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে যদি কোনও অবৈধ ভোটার চিহ্নিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যায়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশেই ইআরও দপ্তর ফর্ম ৭ গ্রহণ করছে না।”
এদিকে বিজেপির রাজ্য সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন,
“আমরা হাজার হাজার ফর্ম ৭ নিয়ে এসেছি, অথচ একটি ফর্মও জমা নেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এটি সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত।”
🔴 ফারাক্কায় ভাঙচুরের অভিযোগ
এই ইস্যুর মধ্যেই ফারাক্কা এসডিএম অফিসে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দ্বারা ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, শাসক দলের মদতেই প্রশাসনিক দপ্তরে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করা যায়।
⚖️ নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি
বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অবিলম্বে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, ফর্ম ৭ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নষ্ট হবে এবং অবৈধ ভোটারের বিষয়টি সামনে আসবে না।
🔍 কেন গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম ৭?
ফর্ম ৭ হল এমন একটি নথি, যার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় থাকা অযোগ্য বা অবৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যায়। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বে—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না মিললেও, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের ফলে আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।











