I-PAC মামলায় হাই কোর্টে তীব্র বিতর্ক: টিএমসি’র আবেদন খারিজ

single balaji

কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে I-PAC দফতরে ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) অভিযান। এই ঘটনার জেরে বিষয়টি পৌঁছেছে কলকাতা হাই কোর্টে। বুধবার হাই কোর্টে মামলার শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও ইডির আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল বাক্‌বিতণ্ডা হয়। শুনানি শেষে আদালত টিএমসি’র আবেদন খারিজ করে দেয়।

ইডি, তৃণমূল কংগ্রেস ও I-PAC—তিন পক্ষই এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে পৃথক আবেদন দাখিল করেছিল। মামলার লাইভ শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কারণে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদেরই আদালত কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

⚖️ শুনানিতে কী বলল ইডি?

ইডি আদালতে জানায়, তৃণমূল কংগ্রেস যে আবেদন দাখিল করেছে তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। সংস্থার দাবি, যে ব্যক্তি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, তিনি অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না
ইডির বক্তব্য—

“অভিযানের সময় আমরা কোনো নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করিনি। সমস্ত নথি ও রেকর্ড মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা নিজেরাই নিয়ে গিয়েছেন।”

ইডি আরও অভিযোগ করে যে, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে বাধা দেন। সংস্থার দাবি, I-PAC প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের ডিজিপি এবং পুলিশ কমিশনার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করেন।

ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তকারী আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়, কার্যত আটক করে রাখা হয়, এবং তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নেওয়া হয়। ইডি একে তদন্ত বানচালের পরিকল্পিত চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে।

🏛️ হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ

ইডির যুক্তির জবাবে কলকাতা হাই কোর্ট জানায়, আদালত বর্তমানে মামলার বৈধতা (মেইনটেনেবিলিটি) যাচাই করছে, মামলার গুণগত দিক নয়।
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, ইডির মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষভুক্ত নয়, সেই কারণেই টিএমসি’র আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে নতুন আবেদন দাখিলের জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে।

🗣️ টিএমসি’র পাল্টা অভিযোগ

হাই কোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইডি যেন রেকর্ডে জানায় যে অভিযানের সময় কোনো রাজনৈতিক তথ্য বা নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি
টিএমসি’র অভিযোগ, ইডি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়ো অভিযোগ তুলছে, এবং তারা আশঙ্কা করছে যে দলের ছয় বছর পুরনো সংবেদনশীল তথ্য ও ডেটা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

🔥 কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা?

প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে গত সপ্তাহে ইডি I-PAC দফতর ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবনে অভিযান চালায়।
ইডির অভিযোগ, I-PAC-এর বিরুদ্ধে চলা মানি লন্ডারিং তদন্তে রাজ্য প্রশাসন প্রমাণ নষ্ট করেছে এবং তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়েছে

এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে ইডি ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলা আগামী দিনে রাজ্য-রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ghanty

Leave a comment