প্রয়াগরাজ: মাঘ মেলা ২০২৬-এর দুই প্রধান স্নান পর্ব—মকর সংক্রান্তি ও মৌনী অমাবস্যা—কে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও মেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক মেগা পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভক্তদের নির্বিঘ্ন স্নানের সুযোগ করে দেওয়া।
এই বছর সঙ্গম নোজে অতিরিক্ত চাপ কমাতে ভক্তদের জন্য রাজ্যভিত্তিক আলাদা আলাদা স্নানঘাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুঁসি এলাকার সেক্টর ফোরে নির্মিত এয়ারাবত ঘাট এবার মাঘ মেলার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্নানঘাট হিসেবে উঠে এসেছে।
🌊 ঐরাবত ঘাটে ১৩ রাজ্যের ভক্তদের মহাস্নান
প্রায় ৮৫০ মিটার দীর্ঘ ঐরাবত স্নানঘাটে মৌনী অমাবস্যার দিনে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিসগড়, ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমের ভক্তরা পবিত্র স্নান করবেন।
মধ্য ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থান থেকে আসা ভক্তদের জন্য সেক্টর এক, দুই, পাঁচ ও ছয় নম্বর ঘাট নির্ধারিত হয়েছে। অন্যদিকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে সেক্টর চার ও সাতের ঘাট।
🚧 রুট ডাইভারশন ও ৪২টি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা
ভিড় সামলাতে মেলা এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ৪২টি পার্কিং এলাকা, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার যানবাহন রাখা যাবে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও পার্কিং এলাকা থেকে ভক্তদের স্নানঘাটে পৌঁছনোর জন্য কার্যকর হবে বিশেষ রুট ডাইভারশন পরিকল্পনা।
মেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- ১৩ জানুয়ারির সন্ধ্যা থেকে মেলা এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ
- ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি) পাসযুক্ত যানবাহনও প্রবেশ করতে পারবে না
- ১৬ জানুয়ারির সন্ধ্যা থেকে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে সম্পূর্ণ যান নিষেধাজ্ঞা
📸 স্নানঘাটে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি নিষিদ্ধ
ভক্তদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সঙ্গমসহ সব ১৬টি স্নানঘাটকে ‘নো ফটোগ্রাফি ও নো ভিডিওগ্রাফি জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। মিডিয়া ছাড়া কেউ মোবাইল বা ক্যামেরায় ছবি কিংবা ভিডিও তুললে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🚑 ১০টি জরুরি পরিকল্পনা, গ্রিন করিডর প্রস্তুত
মেলা চলাকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন তৈরি রেখেছে ১০টি ইমার্জেন্সি প্ল্যান। সঙ্গমে ভিড় বেড়ে গেলে ভক্তদের রামঘাট ও হনুমান ঘাটে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে নৌকা চলাচল বন্ধ, দর্শন স্থগিত এবং বিশেষ গ্রিন করিডর চালু করা হবে।
👮 নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়া নজর
এবার মাঘ মেলাকে তিনের বদলে পাঁচটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
- ১৭টি থানা
- ৪২টি পুলিশ ফাঁড়ি
- ৭টি খোয়া-পাওয়া কেন্দ্র
- ২৫০টি সিসিটিভি (১৫০টি এআই ভিত্তিক)
- প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্প ডেস্ক ও মহিলা হেল্প ডেস্ক
৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪৪ দিনের মাঘ মেলা এখনও পাঁচটি প্রধান স্নান পর্ব বাকি। প্রশাসনের দাবি, এই বছর মাঘ মেলা হবে আরও বেশি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও ভক্তবান্ধব।











